চিকিৎসা পরিকাঠামোর বেহাল দশায় ফটিকরায় প্রাথমিক হাসপাতালে মেঝেতেই আশ্রয় নিচ্ছেন রোগী : চিকিৎসা নিতে এসে মেঝেতে শুয়ে থাকতে হচ্ছে রোগীদের! তার উপর বিদ্যুৎ চলে গেলেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পাখা, দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকলে অন্ধকারে কাটাতে হচ্ছে রাত। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংকটও রয়েছে। ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার ফটিকরায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এমন বেহাল চিত্রে ক্ষোভ বাড়ছে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের মধ্যে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে এই হাসপাতালে রয়েছে মাত্র ১০টি শয্যা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে ফটিকরায় ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের কাছে হাসপাতালটির গুরুত্ব বেড়েছে। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর চাপ। বর্তমানে জ্বর, সর্দি-কাশির প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। পর্যাপ্ত বেড না থাকায় বাধ্য হয়েই অনেক রোগীকে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতালে ভর্তি রোগী সুজিত শব্দকর অভিযোগ করেন, বেডের অভাবে তাঁকে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে পাখাও বন্ধ হয়ে যায়। তীব্র গরমে রোগী ও পরিজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দ্রুত বেডের সংখ্যা বাড়ানো এবং বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
একই অভিযোগ রোগীর আত্মীয় কাঞ্চনা শব্দকরের। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালের বেড ও বিদ্যুৎ সমস্যা রয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে গরমে অসুস্থ রোগীদের আরও কষ্ট হয়। অন্যদিকে, হাসপাতালের শৌচালয় থেকেও দুর্গন্ধ ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন রোগীরা। অর্পিতা শব্দকর নামে এক রোগীও হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রোগী ও পরিজনদের অভিযোগের মধ্যেই হাসপাতালের সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন ইনচার্জ ডঃ মৃন্ময় চাকমা। তিনি জানান, বর্তমানে জ্বর, সর্দি ও কাশির প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় রোগীর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১০ শয্যার হাসপাতালে সকলকে পর্যাপ্ত বেড দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরও সংকট রয়েছে। উন্নত পরিষেবার স্বার্থে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নার্সিং অফিসার দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ সমস্যার কথাও স্বীকার করেছেন হাসপাতাল ইনচার্জ। বিদ্যুৎ চলে গেলে ইনভার্টারের উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু সেই ইনভার্টারে পাখা চালানো সম্ভব হয় না এবং দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকলে চার্জও শেষ হয়ে যায়। ফলে রাতে অন্ধকারে থাকতে হয় রোগীদের। বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ঊনকোটি জেলাতেই মেডিকেল কলেজ তৈরির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা। কৈলাশহরে একটি সংস্থা মেডিকেল কলেজ স্থাপনে আগ্রহী এবং সরকার জমি দিতে প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।
তবে বড় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের স্বপ্নের পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে গ্রামীণ হাসপাতালগুলির বর্তমান পরিকাঠামো নিয়ে। ফটিকরায়ের বাসিন্দাদের দাবি, মেডিকেল কলেজের উদ্যোগের পাশাপাশি এই প্রাচীন হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানো, চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট দূর করা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা নিশ্চিত করা হোক। কারণ, বড় হাসপাতালের স্বপ্নের আগে সাধারণ মানুষের প্রথম চিকিৎসার ভরসাটুকু নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি।






