হাওড়া নদীর জলস্ফীতিতে জলমগ্ন আগরতলার বিস্তীর্ণ এলাকা : অতিবৃষ্টির জেরে হাওড়া নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় আগরতলা শহরের বিভিন্ন নিচু ও নদী তীরবর্তী এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। কাটাখাল, বলদা খাল, শ্রীলঙ্কা বস্তি, চন্দ্রপুরসহ শহরের একাধিক এলাকায় জল ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বহু বাড়িঘর জলবন্দি হয়ে পড়ায় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে অনেক বাসিন্দাকে বাড়ি থেকে সরিয়ে বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
জলাবদ্ধ এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে প্রশাসনের পাশাপাশি এসডিআরএফ ও এনডিআরএফ-এর দল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। নৌকার মাধ্যমে জলমগ্ন এলাকা থেকে বাসিন্দাদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয় শিবিরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। শিশু, মহিলা ও বয়স্কদের উদ্ধারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে পশ্চিম জেলার জেলাশাসক নৌকায় করে জলাবদ্ধ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এদিন। জলমগ্ন এলাকাগুলিতে উদ্ধার ও ত্রাণকার্য কীভাবে চলছে, সেই বিষয়েও তিনি আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি আশ্রয় শিবিরগুলিতে থাকা মানুষের প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এদিকে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীও প্রশাসনের কাছ থেকে খোঁজখবর নেন। জলবন্দি মানুষের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয় এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সন্ধ্যার দিকে আশ্রয় শিবিরগুলিও পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে আশ্রয় নেওয়া দুর্গত মানুষদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে খোঁজ নেন। শিবিরে থাকা শিশু, মহিলা ও প্রবীণদেরও পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান তিনি।
হাওড়া নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং শহরের একাধিক এলাকায় জলাবদ্ধতার জেরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণকার্য অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জলস্তরের ওপরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজর রাখা হচ্ছে।






