SomZBee : রাজ্যে এক তথাকথিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রতারণা, মানসিক হেনস্তা এবং একাধিক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে পশ্চিম মহিলা থানায় এফআইআর দায়ের করলেন এক তরুণী। অভিযুক্ত কৌশিক শীল, যার বাড়ি মেলাঘরে। অভিযোগকারী তরুণীর দাবি, দীর্ঘ আড়াই বছরের সম্পর্ক এবং পারিবারিকভাবে বিয়ে ঠিক হওয়ার পরও তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
তরুণীর বক্তব্য অনুযায়ী, কৌশিক শীলের সঙ্গে তার প্রায় আড়াই বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা উভয় পরিবারের কাছেই জানা ছিল। এমনকি বিয়ের কথাবার্তাও চূড়ান্ত হয়ে যায় এবং কেনাকাটাও শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়েই তিনি জানতে পারেন, তার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেই কৌশিক অন্য একাধিক নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িত ছিলেন।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, শুধু সম্পর্কই নয়, অভিযুক্ত নাকি একাধিক নারীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন এবং তাদের মধ্যে কয়েকজন গর্ভবতীও হয়েছেন। এই সংক্রান্ত একাধিক প্রমাণ তার কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি। সেই প্রমাণসহই তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
তরুণীর অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর গত ডিসেম্বর মাসে উভয় পরিবারের সম্মতিতে সম্পর্কের ইতি ঘটে। তবে এরপরও কৌশিক শীল তাকে মানসিকভাবে হেনস্তা করতে থাকেন। তার ব্যক্তিগত বিষয়, শরীর নিয়ে অশালীন মন্তব্য করে বন্ধুদের মধ্যে আলোচনা করা এবং বিভিন্নভাবে অপমান করার অভিযোগ তোলেন তিনি।
এছাড়াও, তরুণী দাবি করেন, অভিযুক্ত তাকে ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’ বলে অপপ্রচার চালিয়েছেন এবং তাকে হুমকি দিয়ে বলেছেন যে তিনি যে কোনও সময় বিপজ্জনক কিছু করতে পারেন—এমন কথাও ছড়ানো হয়েছে। এতে তার সামাজিক সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ।
ঘটনার এক পর্যায়ে তিনি অভিযুক্তের দাদা, যিনি একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিত, তাকে বিষয়টি জানান। তবে তার অভিযোগ, সেখান থেকেও কোনও সহায়তা পাননি। বরং উল্টো তার পরিবারকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে তাকে আরও সমস্যায় ফেলা হয়।
অর্থনৈতিক প্রতারণার অভিযোগও তুলেছেন ওই তরুণী। তার দাবি, কৌশিক শীল তার কাছ থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন এবং শুধু তার কাছ থেকেই নয়, আরও অনেকের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এই সংক্রান্ত প্রমাণও তার কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তরুণী বলেন, “আমি আইনের দ্বারস্থ হয়েছি, কারণ আমি চাই এই ধরনের মানুষ যেন আর কোনও মেয়ের জীবন নষ্ট করতে না পারে। আমি চাই এর কঠোর শাস্তি হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়।”
তিনি আরও জানান, সামাজিক সম্মানের কথা ভেবে এতদিন বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি। কিন্তু পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, বাধ্য হয়েই তিনি আইনি পদক্ষেপ নিতে এবং প্রকাশ্যে আসতে সিদ্ধান্ত নেন।
এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযুক্ত বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগকারী তরুণীর দেওয়া প্রমাণপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার সব দিক বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত বিস্তারিত কিছু জানাতে নারাজ পুলিশ।
এই ঘটনা আবারও সমাজে সম্পর্কের আড়ালে প্রতারণা ও নারীদের শোষণের মতো গুরুতর সমস্যার দিকে আঙুল তুলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরদার হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।



