খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Saturday, 21 March 2026 - 09:41 PM
শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬ - ০৯:৪১ অপরাহ্ণ

Agartala News : ভাতার ফাইলে ধুলো জমে থমকে নাবালিকার ভবিষ্যৎ — অসহায় পরিবারের আর্তি এখন প্রশাসনের দরজায়

Agartala News
1 minute read

Agartala News : সদর মহকুমার কাঞ্চনমালা এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এক অসহায় পরিবারের করুণ চিত্র সামনে এল। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য পরেশ বিশ্বাস প্রায় এক বছর আগে দুরারোগ্য রোগে মারা যাওয়ার পর থেকেই চরম সংকটে দিন কাটছে তাঁর পরিবারে। বর্তমানে পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধা মা রমা বিশ্বাস, অসুস্থ স্ত্রী মনিকা বিশ্বাস এবং দুই কন্যা সন্তান।

পরেশ বিশ্বাসের মৃত্যুর পর গোটা পরিবার কার্যত রোজগারহীন হয়ে পড়ে। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও মনিকা বিশ্বাস বাধ্য হয়ে মানুষের বাড়িতে কাজ করছেন, শুধুমাত্র দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য। তবে সেই সামান্য আয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে কয়েক মাস আগে ছোট মেয়ের পড়াশোনার জন্য রাজ্য সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের কাছে স্পন্সারশিপ ভাতার আবেদন করা হয়। কিন্তু অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। অফিসের ফাইলের স্তূপে চাপা পড়ে রয়েছে সেই আবেদন, ফলে এখনো কোনো আর্থিক সহায়তা পায়নি পরিবারটি।

শনিবার সকালে সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে পরিবারের দুঃসহ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন বৃদ্ধা রমা বিশ্বাস। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “প্রায় এক বছর আগে আবেদন করেছি, কিন্তু এখনো কোনো ভাতা পাইনি। ছেলে মারা যাওয়ার পর সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। নাতি-নাতনিদের পড়াশোনা কীভাবে চালাব, সেটাই বুঝতে পারছি না।”

তিনি আরও জানান, নিজের বার্ধক্যজনিত কারণে কাজ করতে পারেন না। সামান্য যে ভাতা পান, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাতে হয়। অন্যদিকে, পুত্রবধূর শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। তিনি যে সামান্য আয় করেন, তার বেশিরভাগই খরচ হয়ে যায় যাতায়াত ও ওষুধে। ফলে শিশুদের শিক্ষার খরচ চালানো একপ্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিবারের দাবি, দ্রুত স্পন্সারশিপ ভাতা চালু করা হলে অন্তত ছোট মেয়েটির পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে সেই আশাতেই দিন গুনছেন তাঁরা।

এদিকে, এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এখন দেখার বিষয়, রাজ্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর কত দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। অসহায় এই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের উদ্যোগই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

For All Latest Updates

ভিডিও