খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Wednesday, 18 March 2026 - 09:34 PM
বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ - ০৯:৩৪ অপরাহ্ণ

ADC Election News : উৎসবের দিনে ভোট নয়! এডিসি নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবিতে জনজাতি সমাজপতিদের আবেদন

ADC Election News
1 minute read

ADC Election News : ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ (টিটিএএডিসি) সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন আগামী ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা করতেই আপত্তি জানিয়েছেন রাজ্যের বিভিন্ন জনজাতি সম্প্রদায়ের সমাজপতিরা। তাঁদের দাবি, ঘোষিত দিনটি তাদের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্যবাহী উৎসব পালনের সূচনালগ্ন হওয়ায় ওই দিনে নির্বাচন হলে জনজীবন ও ভোটগ্রহণ—উভয়ের ওপরই বিরূপ প্রভাব পড়বে।

বুধবার আগরতলা প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এই দাবি সামনে তুলে ধরেন বিভিন্ন জনজাতি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। উপস্থিত ছিলেন পূর্ণচন্দ্র দেব্বর্মা, বীরেন্দ্র ত্রিপুরা সহ একাধিক সমাজপতি ও সংগঠনের প্রতিনিধি। সম্মেলন শেষে তাঁরা একটি প্রতিনিধি দল গঠন করে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত আবেদনও জমা দেন।

রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ঘোষণামতে, ১৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে চলেছে টিটিএএডিসি-র সাধারণ নির্বাচন। কিন্তু এই দিন থেকেই শুরু হয় ত্রিপুরার বিভিন্ন জনজাতি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসব—বিজু, বৈশু, বিহু, সাংগ্রাই, পরব প্রভৃতি। এই উৎসবগুলি সাধারণত ১৩ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পালিত হয় এবং এর সঙ্গে যুক্ত থাকে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। পাশাপাশি ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় গড়িয়া পূজা, যা ত্রিপুরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লোকায়ত ধর্মীয় উৎসব।

সমাজপতিদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই সময়সীমা শুধুমাত্র ত্রিপুরাতেই নয়, সমগ্র ভারতবর্ষ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে নববর্ষ ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব পালনের সময়। যেমন—বাংলায় পয়লা বৈশাখ, আসামে বিহু, পাঞ্জাবে বৈশাখী, তামিলনাড়ুতে পুঠান্ডু, কেরলে বিষু, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্ণাটকে উগাদি, এমনকি থাইল্যান্ডে সংক্রান্ত উৎসব পালিত হয় এই সময়ে।

সাংবাদিক সম্মেলনে বীরেন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, “আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছি না। আমরা চাই নির্বাচন হোক শান্তিপূর্ণভাবে এবং সকলের অংশগ্রহণে। কিন্তু ১৩ এপ্রিল আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন, যেদিন থেকে আমাদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব শুরু হয়। এই সময়ে মানুষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সামাজিক মিলনমেলায় ব্যস্ত থাকে। ফলে ভোটে অংশগ্রহণে অসুবিধা হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু জনজাতি সম্প্রদায় নয়, ত্রিপুরার বাঙালি সহ সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষই এই সময়টিকে উৎসব হিসেবে উদযাপন করেন। তাই এই দিনগুলোতে নির্বাচন হলে উৎসবের আনন্দ ব্যাহত হবে এবং ভোটগ্রহণও প্রভাবিত হতে পারে।”

পূর্ণচন্দ্র দেব্বর্মা সহ অন্যান্য প্রতিনিধিরাও একই সুরে বলেন, ১৩ থেকে ১৫ এপ্রিল এবং ২১ এপ্রিল—এই দিনগুলো এড়িয়ে অন্য কোনো দিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তাঁরা নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।

সমাজপতিদের তরফে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া আবেদনে বলা হয়েছে,
১৩ এপ্রিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের পক্ষে ভোটগ্রহণে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে, কারণ সেই সময় তারা তাদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব পালনে ব্যস্ত থাকেন। এর ফলে একদিকে যেমন ভোটার উপস্থিতি কমতে পারে, অন্যদিকে উৎসবের স্বাভাবিক পরিবেশও বিঘ্নিত হতে পারে।

তাঁরা আবেদন জানিয়েছেন, ১৩ থেকে ১৫ এপ্রিল এবং ২১ এপ্রিল তারিখগুলি বাদ দিয়ে অন্য কোনো সুবিধাজনক দিনে নির্বাচন পুনঃনির্ধারণ করা হোক। এতে একদিকে যেমন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে, অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী উৎসবও নির্বিঘ্নে পালন করা সম্ভব হবে।

ত্রিপুরার জনজাতি সমাজে বিজু, বৈশু, সাংগ্রাই প্রভৃতি উৎসব শুধু আনন্দ-উৎসব নয়, বরং সামাজিক ঐক্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। এই সময়ে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন একত্রিত হন, বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় এবং সমাজজীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি উদযাপিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উৎসবের সঙ্গে মানুষের আবেগ গভীরভাবে জড়িত। ফলে এই সময়ে নির্বাচন আয়োজন করলে ভোটারদের অংশগ্রহণে প্রভাব পড়া স্বাভাবিক।

সাংবাদিক সম্মেলনের পর সমাজপতিদের প্রতিনিধি দল সরাসরি রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে তাঁদের দাবি জানায়। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন এই আবেদনকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে এবং নির্বাচনসূচিতে কোনো পরিবর্তন আনে কি না।

সমাজপতিদের আশা, প্রশাসন বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেবে যাতে উৎসব ও নির্বাচন—দুই-ই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

ত্রিপুরায় আসন্ন টিটিএএডিসি নির্বাচনকে ঘিরে এই নতুন পরিস্থিতি প্রশাসনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অন্যদিকে মানুষের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন—এই দুইয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা করাই এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
এখন সকলের নজর রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে।

For All Latest Updates

ভিডিও