Khumulung Pistal News : গত ৩ জানুয়ারি রাঁধাপুর থানাধীন এডিসি সদর দপ্তর এলাকার খুমলুং খেরেঙ্গবার হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক মহিলা ভর্তি হওয়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। আহত মহিলার নাম দিপালী দেববর্মা। হাসপাতাল সূত্রে খবর পেয়ে ঘটনার তদন্তে নামে রাঁধাপুর থানার পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন রাত সাড়ে নয়টা নাগাদ কেয়াম্বার হাসপাতাল থেকে থানায় ফোন আসে যে একটি বুলেট ইনজুরি আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে আনা হচ্ছে। খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায়। পরে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে জিবি হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানেই পুলিশ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে এবং আহত মহিলাকে সরেজমিনে পরিদর্শন করে।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষায় এটি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা বলে সন্দেহ করা হয়। সেই সূত্র ধরেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে উঠে আসে আহত মহিলার আপন ভাই সারেন্দ্র দেববর্মার নাম। জিজ্ঞাসাবাদে সারেন্দ্র দেববর্মা পুলিশকে জানায়, সে তার বাড়ির পাশের জঙ্গলে লাকড়ি কাটতে গিয়ে একটি দেশি পিস্তল কুড়িয়ে পায়। পরে ৩ জানুয়ারি রাতে পিস্তলটি পরিষ্কার বা পরীক্ষা করার সময় হঠাৎ গুলি বেরিয়ে যায়।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ওই গুলি সারেন্দ্র দেববর্মার আপন বোন দিপালী দেববর্মার বুকের বাম পাশ, বগলের নিচ দিয়ে বিদ্ধ হয়। বর্তমানে দিপালী দেববর্মার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। গুলি এখনও শরীরের ভেতরে রয়েছে এবং চিকিৎসকদের মতে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চলছে।
এই ঘটনার পর পুলিশ সারেন্দ্র দেববর্মাকে গ্রেফতার করে এবং তার কাছ থেকে ব্যবহৃত দেশি পিস্তলটি উদ্ধার করে। অস্ত্র আইনে একটি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। রাঁধাপুর থানায় এই ঘটনায় আর্মস অ্যাক্ট অনুযায়ী কেস নম্বর ০১ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
আহত দিপালী দেববর্মার চিকিৎসা চলছে এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছেন চিকিৎসকরা। অন্যদিকে উদ্ধার হওয়া দেশি পিস্তল ও অভিযুক্ত সারেন্দ্র দেববর্মাকে হেফাজতে নিয়ে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে রাঁধাপুর থানার পুলিশ। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে



