খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Tuesday, 11 August 2026 - 07:39 PM
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬ - ০৭:৩৯ অপরাহ্ণ

চলন্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে গাঁজা পাচারের চেষ্টা করে উদয়পুরে আটক দুই পাচারকারী

চলন্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে গাঁজা পাচারের চেষ্টা করে উদয়পুরে আটক দুই পাচারকারী
1 minute read

চলন্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে গাঁজা পাচারের চেষ্টা করে উদয়পুরে আটক দুই পাচারকারী : স্টেশন ছেড়ে ট্রেন তখন গতি বাড়াচ্ছে। হঠাৎই মাঝপথে চেন টেনে থামানো হলো কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি গাড়ি থেকে নেমে এক যুবকের দৌড়ে চলন্ত ট্রেনে উঠে পড়া। দৃশ্যটি নজরে আসে নিরাপত্তারক্ষীদের। সন্দেহ হয় তাঁর গতিবিধি নিয়ে। এরপর তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে আসল রহস্য—ট্রলি ব্যাগের ভিতরে বিপুল পরিমাণ শুকনো গাঁজা!
মঙ্গলবার সকালে উদয়পুর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া গাঁজার পরিমাণ ১০ কেজিরও বেশি। ঘটনায় এমডি তুষার (২০) এবং জাহিদ মিয়া (২১) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুজনেরই বাড়ি সিপাহীজলা জেলার সোনামুড়া এলাকায় বলে জানা গেছে।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সকালে উদয়পুর স্টেশন থেকে সাবরুম-শিয়ালদহ কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ছেড়ে যাওয়ার পর স্টেশন থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে চেন টেনে ট্রেন থামানো হয়। সেই সুযোগে একটি গাড়ি থেকে এক যুবক নেমে দৌড়ে চলন্ত ট্রেনে উঠে পড়ে। তাঁর এই অস্বাভাবিক গতিবিধিই নিরাপত্তারক্ষীদের সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যুবকটিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। এরপর তাঁর সঙ্গে থাকা ট্রলি ব্যাগে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে গাঁজার প্যাকেট। বিষয়টি জানাজানি হতেই তৎপর হয়ে ওঠে রাধাকিশোরপুর থানার পুলিশ, উদয়পুর জিআরপি এবং বিএসএফ।

পরবর্তী তদন্তে এই ঘটনার সঙ্গে আরও একজনের যোগসূত্রের সন্ধান মেলে। এরপর এমডি তুষার ও জাহিদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া গাঁজার পরিমাণ ১০ কেজির বেশি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, সোনামুড়া এলাকা থেকেই এই গাঁজার চালান আনা হয়েছিল। এরপর রেলপথে করে তা চেন্নাইয়ে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে গাঁজার প্রকৃত উৎস, পাচারের নির্দিষ্ট গন্তব্য এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।

পুলিশ ইতিমধ্যেই ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য পাচারচক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। গাঁজার চালানটি কার কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, এর পেছনে কোনো বড় আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। অভিযান সম্পর্কে সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত তথ্য দেন উদয়পুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবাঞ্জলি রায়। তিনি জানান, মাদক পাচারের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পাচারের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতেও তদন্ত চলছে।

স্বাধীনতা দিবসের আগে রেলপথে এমন মাদক পাচারের চেষ্টা সামনে আসায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ট্রেনকে ব্যবহার করে রাজ্যের বাইরে গাঁজা পাচারের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যদিও এবার নিরাপত্তারক্ষীদের তৎপরতায় পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, তদন্তকারীদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—এই চালানের পিছনে থাকা আসল মাথাদের খুঁজে বের করা।
দুই যুবক গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধারের মধ্যেই আপাতত অভিযান সফল। কিন্তু এই চালান কি শুধুই দুই যুবকের পরিকল্পনা, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বড় কোনো আন্তঃরাজ্য পাচারচক্র—তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই রহস্যই রয়ে যাচ্ছে।

For All Latest Updates

খাস খবর