Tripura Ujjayanta Palace : উত্তর পূর্ব ভারত বৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ মেল বন্ধন। তার পাশাপাশি এখানকার পর্যটন ক্ষেত্র ও রাজন্য আমলের ইতিহাস এবং শিল্প পর্যটক দের আকর্ষণ এর অন্যতম কারণ। রোজ লক্ষ লক্ষ পর্যটক উত্তর পূর্ব ভারতের মাধুর্য উপভোগ করতে আসেন। আর তাদের আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে ত্রিপুরার নাম ।
ত্রিপুরা, ভারত এর একটি ক্ষুদ্র পাহাড়ি রাজ্য। যেখানে জাতি জনজাতির মেল বন্ধন এই রাজ্য কে সবার কাছে অতিব পরিচিত করে তুলেছে। এই ত্রিপুরা রাজ্য অবিভক্ত বাংলার অঙ্গ ছিল এক সময়। তৎকালে ভারতের অন্য সব কটি রাজ্যের মতোই এখানেও ছিল রাজন্য শাসন। সে আমলে ত্রিপুরা রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রাজা মহারাজারা তাদের বিভিন্ন প্রাসাদ ও স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করে গেছেন। যা ভারতের মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ পর্যটন কেন্দ্র গুলোর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে।
এমনই একটি প্রাসাদ হল উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ। যা রাজবাড়ি হিসেবে ও প্রসিদ্ধ। ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার একেবারে প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত রাজ বাড়ি। মাত্র ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নির্মিত এই রাজ বাড়ির আরেক নাম শ্বেত ভবন ও বলা যায়। রাজধানী আগরতলার সব চাইতে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বলতে গেলে এটিই।
রাজন্য শাসিত ত্রিপুরার মহারাজা রাধা কিশোর মানিক্যের আমলে ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এই প্রাসাদ টি নির্মাণ করিয়েছিলেন। ১৮৯৯ সাল থেকে ১৯০১ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়। মহারাজা রাধা কিশোর মানিক্যের স্ত্রী ও কন্যারা এই রাজপ্রাসাদে থাকতেন। তার পরে যারা ক্রমান্বয়ে রাজ পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন কিংবা রাজ্য শাসন করেও তারাও এই রাজবাড়ী থেকেই রাজ কাজ পরিচালনা করেছেন। তখন থেকেই এই রাজবাড়ির গরিমা রয়েছে।
১৮৯৯ সালে, যখন এই প্রাসাদ নির্মাণের পরিকল্পনা গৃহীত হয়, তখন তৎকালীন ইংরেজ পরিচালিত মার্টিন অ্যান্ড বার্ন কোম্পানিকে এই প্রাসাদ নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রাসাদটি ব্রিটিশ কোম্পানি মার্টিন অ্যান্ড বার্ন ১০ লক্ষ তথা ১ মিলিয়ন ডলার এর বিনিময়ে তৈরি করেছিলেন। বর্তমানে সে প্রাসাদের কয়েক শত কোটি টাকার ও বেশি।
প্রাসাদের বাহ্যিক এবং ভেতরের সম্পূর্ণ দেওয়াল সাদা রঙ্গে রঞ্জিত। প্রাসাদটি বিভিন্ন মিশ্র সংস্কৃতি এবং স্থাপত্যের সমন্বয়ে নির্মান করা হয়েছে । প্রাসাদে তিনটি উঁচু গম্বুজ রয়েছে। যার মধ্যে সর্বোচ্চ গম্বুজ টি রয়েছে মাঝখানে । যার উচ্চতা প্রায় ৮৬ ইঞ্চি।
রাজ বাড়ি উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ টি সময়ের সাথে সাথে রাজ পরিবারের হাত থেকে সরকারি সম্পত্তি তে রূপায়িত হয়। ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার পর, ত্রিপুরা যখন ১৯৬৩ সালে ভারতের অংশ হয়ে ওঠে এবং ১৯৭১ সালে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পায় তখন ১৯৭২-৭৩ সালের দিকে, ভারত সরকারের অন্তর্ভুক্ত ত্রিপুরা সরকার রাজপরিবারের কাছ থেকে মোট ২৫ লক্ষ ডলারে এই রাজপ্রাসাদটি কিনে নেয়। পরে এটিকে রাজ্য সরকারের বিধানসভার আসনে রূপান্তরিত করা হয়।
বর্তমানে এটি একটি মিউজিয়াম। যেখানে রাজ পরিবারে ও রাজন্য শাসিত ত্রিপুরার নানা ইতিহাস ও কাহিনী গচ্ছিত রাখা হয়েছে। ২৪/৭ ঘণ্টা এখানে নিরাপত্তা কর্মীরা মোতায়েন থাকেন। টিকিটের বিনিময়ে পর্যটকেরা ভ্রমন করতে আসেন। রাজ্য সরকার এই প্রাসাদ প্রাঙ্গণ কে সময়ের সাথে সাথে সংস্কার এর মধ্যে দিয়ে দর্শক দের কাছে আরও মনোরম করে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। যা ত্রিপুরার একটি অত্যন্ত মুল্যবান সম্পদ বলেও দাবী করা যায়।