জুডোকা অস্মিতা দের হাতে ১০ লক্ষ টাকার চেক ও জমির নথি তুলে দিল ত্রিপুরা সরকার : আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ত্রিপুরার নাম উজ্জ্বল করে ফেরার পর রাজ্যের গর্বের মেয়ে জুডোকা অস্মিতা দে-কে সংবর্ধনা জানাল ত্রিপুরা সরকার। কমনওয়েলথ গেমসে জুডোয় ভারতের হয়ে প্রথম স্বর্ণপদক জয় লাভ করেছেন অস্মিতা। আর তার এই সাফল্যকে সম্মান জানাতেই ১২ই আগস্ত বুধবার আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অস্মিতার হাতে ত্রিপুরা সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দকৃত আড়াই গণ্ডা জমির নথি এবং ১০ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। রাজ্যের এক ক্রীড়াবিদ হিসেবে অস্মিতার এই অর্জন শুধু ত্রিপুরা নয়, গোটা দেশের জন্যই গর্বের বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়।
অস্মিতা দে-র সাফল্যকে আগামী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে তুলে ধরা হয়। প্রতিকূলতা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে ছোট রাজ্য থেকেও বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াক্ষেত্রে অস্মিতার এই সাফল্য নারী ক্ষমতায়নেরও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। একজন মহিলা ক্রীড়াবিদ হিসেবে তাঁর এই অর্জন রাজ্যের অন্যান্য তরুণী ও কিশোরীদের ক্রীড়াক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
অস্মিতার সাফল্যকে ঘিরে ত্রিপুরাজুড়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে গর্বের আবহ। কমনওয়েলথের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের হয়ে স্বর্ণপদক জয় করে তিনি যে নজির তৈরি করেছেন, তা আগামী দিনে রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন ক্রীড়ামহল।
সরকারের পক্ষ থেকে জমি ও আর্থিক সম্মাননা প্রদানকে অস্মিতার কৃতিত্বের প্রতি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁর মতো প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের পাশে দাঁড়ানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করার ক্ষেত্রেও এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা নিজ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, রাজ্যের তরুণ প্রজন্ম অস্মিতার মত ক্রীড়াবিদ দের দেখে অনুপ্রাণিত হবে এবং আগামী দিনে খেলাধুলায় মনোনিবেশ করবে।
রাজ্য সরকারের ক্রীড়া দপ্তর ক্রীড়া প্রেমী দের জন্যে নানা সুযোগ সুবিধার দিক উন্মোচন করতে সচেষ্ট। শিশুরা যদি খেলাধুলার প্রতি মনোনিবেশ করে তবে আগামী দিনে তারাও অস্মিতার মত কৃতিত্ব অর্জন করে রাজ্য ও দেশের নাম উজ্জ্বল করতে পারবে বলেই আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
একদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বর্ণজয়, অন্যদিকে নিজের রাজ্যে সরকারি সম্মাননা—অস্মিতা দে-র ক্রীড়াজীবনের এই অধ্যায় নিঃসন্দেহে ত্রিপুরার ক্রীড়া ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।






