Takarjala BJP Candidate : টাকারজলা বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন ঘিরে ফের উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক হিংসা ও অশান্তির জেরে কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়েছে গোটা এলাকা। একাধিক গাড়ি, বাইক এবং বুথ অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বিজেপি মনোনীত প্রার্থী নির্মল দেববর্মার বাড়িতেও হামলা চালানোর অভিযোগ সামনে এসেছে, যা ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোট গ্রহণের দিন থেকেই বিভিন্ন বুথে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, একাধিক বুথে বিজেপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টদের মারধর করে বুথ থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সাধারণ ভোটারদেরও ভয় দেখিয়ে ভোটদানের লাইন থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনাগুলির জন্য তিপ্রা মথা দলের সমর্থকদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন বিজেপি প্রার্থী নির্মল দেববর্মা। তিনি দাবি করেছেন, “আমরা যেসব বুথে পোলিং এজেন্ট পাঠিয়েছিলাম, সেখানে বাইরের লোক এসে মারধর করে আমাদের এজেন্টদের বের করে দিচ্ছে। এখনও খবর আসছে, যেখানে যেখানে আমাদের এজেন্ট রয়েছে, তাদেরও জোর করে বের করে দেওয়া হচ্ছে।”
নির্মল দেববর্মা আরও অভিযোগ করেন, শুধু বিজেপি নয়—সিপিএম, আইপিএফটি সহ অন্যান্য দলের সমর্থকরাও হামলার শিকার হচ্ছেন। তাঁর কথায়, “ভোটারদের লাইন থেকে মারধর করে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না।”
তিনি পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকাতেও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, “পুলিশ সবকিছু দেখছে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।”
উল্লেখ্য, টাকারজলা কেন্দ্রের অন্তর্গত জম্বুলা এলাকায় মোট ২৭টি বুথ রয়েছে। তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, মাত্র ৪-৫টি বুথে বিজেপির পোলিং এজেন্টরা উপস্থিত থাকতে পেরেছেন। বাকি অধিকাংশ বুথ থেকেই তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। তাই অবিলম্বে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং প্রতিটি ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে।
নির্মল দেববর্মার দাবি, “রি-পোল হলে তবেই সাধারণ মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।”
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।



