Sanatan Das Goswami : সম্প্রতি ২৫ ডিসেম্বরকে “তুলসী দিবস” হিসেবে পালন করা উচিত কি না—এই প্রশ্ন ঘিরে বৈষ্ণব সমাজে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এই প্রসঙ্গে এক বৈষ্ণব বক্তা শাস্ত্রভিত্তিক ব্যাখ্যা তুলে ধরে জানান, নির্দিষ্ট কোনো ইংরেজি তারিখে তুলসী দেবীর বিশেষ পূজার নির্দেশ বৈষ্ণব শাস্ত্রে পাওয়া যায় না।
তিনি বলেন, কৃষ্ণভক্ত বা বৈষ্ণবরা সারা বছর, প্রতিদিনই তুলসী দেবীর আরাধনা করে থাকেন। তুলসী দেবীর স্নান, প্রণাম মন্ত্র পাঠ, প্রদক্ষিণ এবং তুলসী পাতা শ্রীকৃষ্ণের চরণে অর্পণ—এই সবই নিত্যকর্মের অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে কার্তিক মাস বা দামোদর মাসে তুলসী কীর্তন, ‘শ্রীকৃষ্ণ প্রিয়সী’ গান, তুলসী পূজা ও রাধা-দামোদর পূজা বৈষ্ণবদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে বক্তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২৫ ডিসেম্বরকে আলাদা করে “তুলসী পূজা দিবস” হিসেবে পালনের কোনো শাস্ত্রীয় প্রমাণ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, বৈষ্ণবদের অন্যতম প্রধান আচরণশাস্ত্র হরিভক্তিবিলাস গ্রন্থে মাসভিত্তিক করণীয় বা “মাসকৃত্য” স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে। গ্রন্থের ১৪তম বিলাসে পৌষ মাসে কী কী ব্রত ও আচার পালন করতে হবে, তা উল্লেখ রয়েছে।
তিনি জানান, হরিভক্তিবিলাস অনুযায়ী পৌষ মাসে মূলত শুক্লপক্ষের একাদশী, দ্বাদশী এবং কিছু ক্ষেত্রে পূর্ণিমা তিথিতে নির্দিষ্ট ব্রতের উল্লেখ পাওয়া যায়। কিন্তু কোথাও পঞ্চমী তিথিতে বা নির্দিষ্টভাবে ২৫ ডিসেম্বর তারিখে তুলসী পূজার নির্দেশ নেই।
বক্তা আরও বলেন, বৈষ্ণব ধর্মে সব ধর্মীয় উৎসব ও অনুষ্ঠান তিথি অনুযায়ী পালন করা হয়, কোনো ইংরেজি তারিখ অনুযায়ী নয়। রথযাত্রা, ঝুলনযাত্রা, রাসযাত্রা—সবই চন্দ্রতিথির ভিত্তিতে নির্ধারিত। তাই প্রতি বছর একই তারিখে কোনো বৈষ্ণব উৎসব পালন করার রীতি নেই।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ২৫ ডিসেম্বর কোনো এক বছরে পঞ্চমী তিথি হতে পারে, কিন্তু পরের বছর তা অন্য তারিখে পড়বে। ফলে একটি চলমান তিথিকে স্থির ইংরেজি তারিখের সঙ্গে যুক্ত করা শাস্ত্রসম্মত নয়। তুলসী দেবীর জন্মতিথি বা তুলসী বিবাহও নির্দিষ্ট তিথিতে হয়, কোনো নির্দিষ্ট তারিখে নয়।
তবে বক্তব্যের শেষে তিনি সকল ভক্তকে অনুরোধ জানান—তুলসী দেবীর আরাধনায় যেন কোনো শৈথিল্য না আসে। প্রতিদিন তুলসী স্নান, পূজা, প্রদক্ষিণ, তুলসী পাতা শ্রীকৃষ্ণকে অর্পণ, গীতা ও ভাগবতের সঙ্গে তুলসী নিবেদন, বুকে তুলসী ধারণ—এই নিত্য আচারগুলো পালন করলেই প্রকৃত ভক্তি প্রতিষ্ঠিত হয় বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “শাস্ত্র মেনে, তিথি মেনে ভক্তি করলে তবেই বৈষ্ণব ধর্মের মূল ভাব অক্ষুণ্ণ থাকবে।” বক্তব্যের শেষে তিনি সকলকে ‘রাধে রাধে’ ধ্বনির মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান।



