Sabroom Madhyamik Exam : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও নিয়মশৃঙ্খলার প্রশ্ন আবারও সামনে এল দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি পরীক্ষা কেন্দ্রকে ঘিরে ওঠা গুরুতর অভিযোগে। মাধ্যমিক পরীক্ষার শেষ দিনে ঘটে যাওয়া এক ঘটনার জেরে এক ছাত্রীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে দাবি উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দোলবারি হাই স্কুলের ছাত্রী রিয়া মগ নির্ধারিত সূচি মেনে এই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসে। প্রথম চারটি পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলেও শেষ দিনের গণিত পরীক্ষায় ঘটে বিপত্তি। জানা গেছে, নির্ধারিত ‘স্ট্যান্ডার্ড’ প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে তাকে ভুলবশত ‘বেসিক’ প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরীক্ষার বেশিরভাগ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত এক শিক্ষিকা বিষয়টি লক্ষ্য করেন। এরপর পরীক্ষার শেষ মুহূর্তে ওই ছাত্রীর কাছ থেকে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনায় ছাত্রীর স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ নষ্ট হয়েছে বলে পরিবারের দাবি। ফলে তার ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং শূন্য পাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে আরও অভিযোগ, পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের গাফিলতিই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। সেন্টার সুপারভাইজার প্রণব দাসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষিকা সুতপা পালের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। তাঁদের মতে, পরীক্ষাকক্ষে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও দায়িত্ববোধের অভাবেই এমন গুরুতর ত্রুটি ঘটেছে।
এদিকে, তদন্তে নেমে আরও কিছু অভিযোগ সামনে এসেছে বলে জানা যায়। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এই পরীক্ষা কেন্দ্রে কিছু শিক্ষক নিজেদের বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে থাকেন। এমনকি পরীক্ষার সময় অনৈতিক সহায়তার অভিযোগও উঠেছে। যদিও এই দাবিগুলির সত্যতা এখনও প্রশাসনিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে অভিভাবক মহলে ক্ষোভ বাড়ছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরদার হয়েছে।
একটি মাত্র ভুল একটি মেধাবী ছাত্রীর ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করে তুলতে পারে—এই ঘটনাই তার প্রমাণ বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এখন সকলের নজর প্রশাসনের দিকে। অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটাই দেখার।



