Pabitra kar : বুধবার সারা ভারত কৃষক সভার ডাকে রাজভবন অভিযান ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মিছিলকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, এই সময় পুলিশ লাঠিচার্জ ও ধাক্কাধাক্কি শুরু করে এবং প্রবীণ বাম নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী তথা প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ পবিত্র করের ওপর হামলা চালায়। ঘটনায় তার শার্ট ছিঁড়ে যায়, চশমা ভেঙে যায় এবং ঘড়ি খুলে ফেলার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে।
পবিত্র কর এই ঘটনাকে “সরাসরি গুন্ডামি” বলে অভিহিত করে পুলিশের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেন। তিনি দাবি করেন, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাতে গিয়েই তাদের ওপর আক্রমণ হয়েছে। তার কথায়, “আমরা যুদ্ধ করতে আসিনি, দাবি জানাতে এসেছি। অথচ ছয়জন পুলিশ অফিসার আমাকে আটক করে টানা-হেঁচড়া করেছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, পশ্চিম থানার ওসি রানা চ্যাটার্জীকেও ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করতে দেখা গেছে।
এই ঘটনার পর আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কৃষক, খেতমজুর এবং জুমিয়া সম্প্রদায়ের দাবিগুলি উপেক্ষা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন নেতারা। একইসঙ্গে তারা দাবি করেন, বিজেপির বিরুদ্ধে জনসমর্থন বাড়ছে এবং এই আন্দোলনে বিভিন্ন স্তরের মানুষ যোগ দিচ্ছেন।
এদিকে, ত্রিপুরা উপজাতি স্বশাসিত জেলা পরিষদের আসন্ন নির্বাচনের তারিখ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়। ১৩ এপ্রিল নির্ধারিত ভোটের দিনটি গরিয়া পূজার সময় পড়ায়, আন্দোলনকারীরা নির্বাচন কমিশনের কাছে তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানান। তাদের বক্তব্য, ১৩, ১৪, ১৫ ও ২১ এপ্রিল উপজাতি এবং বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ উৎসবের দিন। ফলে এই দিনগুলো এড়িয়ে অন্য কোনো দিনে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা উচিত।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তারা ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেছেন এবং শীঘ্রই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও দেখা করবেন। শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালনের স্বার্থেই এই দাবি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।



