Manik Sarkar Dukli : ডুকলি বিভাগে যুব সমাজের ভবিষ্যৎ ও কর্মসংস্থান ইস্যুকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হলো ডুকলি বিভাগীয় কমিটির ৪র্থ সম্মেলন। রবিবার সকালে আয়োজিত এই সম্মেলনে অংশ নেন বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। “অনিশ্চিত কাজ, নেশায় ডুবছে যুব সমাজ, দৃঢ় সংগঠন গড়ে ইউনিটে ইউনিটে তোলো আওয়াজ—চাই সবার জন্য শিক্ষা, সবার জন্য কাজ” এই মূল স্লোগানকে সামনে রেখেই সম্মেলনের সূচনা হয়।
সম্মেলনের উদ্বোধন করেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সংগঠনের ডুকলি বিভাগীয় কমিটির সভাপতি অরিন্দম বিশ্বাস সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান সিপিআই(এম) পশ্চিম জেলা কমিটির সম্পাদক রতন দাস। উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক রাজকুমার চৌধুরী, বিধায়ক রামু দাস, ডিওয়াইএফআই রাজ্য কমিটির সম্পাদক নবারুণ দেব, ডুকলি বিভাগীয় কমিটির সম্পাদক শুভংকর মজুমদার, প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান সৃজন দেব সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মানিক সরকার বর্তমান রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, গত আট বছরে সরকার একাধিকবার নেতৃত্ব পরিবর্তন করলেও সাধারণ মানুষের মৌলিক সমস্যার কোনো সমাধান করতে পারেনি। নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতিগুলি দেওয়া হয়েছিল, তার একটি পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
বিশেষ করে কর্মসংস্থানের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, ২০১৮ সালের আগে ত্রিপুরায় সরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীর সংখ্যা যেখানে প্রায় ১ লক্ষ ৬৫ থেকে ৬৭ হাজার ছিল, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ১ লক্ষ ১৫ থেকে ২০ হাজারে। এই পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও সরকার তা পূরণের ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।
মানিক সরকারের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং অবসর গ্রহণের ফলে যে শূন্যপদ সৃষ্টি হয়েছে, তা পূরণ না হওয়ায় রাজ্যের বেকার যুবকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। প্রায় ৫০ হাজার শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতি না থাকায় যুব সমাজের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থানের অভাব ও অনিশ্চয়তার কারণে একাংশ যুব সমাজ নেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা সামাজিকভাবে গভীর সংকট তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংগঠিত আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি। যুবকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
সম্মেলনে অন্যান্য বক্তারাও একই সুরে বক্তব্য রেখে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অধিকারের প্রশ্নে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। ইউনিট স্তরে সংগঠন বিস্তারের মাধ্যমে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।
সমগ্র সম্মেলন জুড়ে যুব সমাজের বর্তমান পরিস্থিতি, কর্মসংস্থানের সংকট এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, এই সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনের ভিত আরও মজবুত হবে এবং আগামী দিনে বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।



