Mandai Sushanta Chowdhury : ত্রিপুরার ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়া অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (এডিসি) নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। এই আবহেই সোমবার ১৬ মান্দাইনগর-পুলিনপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রাজেশ দেববর্মার সমর্থনে মান্দাইয়ের ভৃগুদাস বাড়ি স্কুল মাঠে এক নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, অবজারভার বিশ্বজিৎ ঘোষ, সুকান্ত ঘোষসহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব।
জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী এডিসি নির্বাচনে বিজেপিকে জয়ী করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কেন্দ্র, রাজ্য এবং এডিসি—তিন স্তরেই বিজেপি সরকার থাকলে উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানীয় জল এবং সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়নে পর্যাপ্ত তহবিল আনার জন্য ১২ এপ্রিল পদ্মফুল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এই সভার মধ্যেই রাজনৈতিক পালাবদলের চিত্রও দেখা যায়। বিজেপি প্রার্থী রাজেশ দেববর্মার হাত ধরে ২৭টি পরিবারের মোট ৯১ জন ভোটার তিপ্রা মথা ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন বলে দাবি করা হয়।
এদিন সিপিআই(এম) এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার-এর কড়া সমালোচনা করেন সুশান্ত চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করেন, বামফ্রন্ট সরকার রাজাদের, বিশেষ করে মহারাজা বীর বিক্রম মানিক্য বাহাদুর এবং জনজাতিদের যথাযথ সম্মান দেয়নি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, অতীতে বিভিন্ন আঞ্চলিক দল এডিসির শাসন করলেও প্রকৃত উন্নয়ন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং শুধুমাত্র ভোটব্যাংকের রাজনীতি করেছে।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, “ভোটব্যাংকের রাজনীতিতে না পড়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবুন। এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে স্থানীয় মানুষদের চিকিৎসার জন্য আগরতলায় যেতে না হয়, এলাকাতেই উন্নত হাসপাতাল ও শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।”
অন্যদিকে, বিজেপির বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, অতীতে সিপিআই(এম) পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করেছে। তবে বর্তমান সরকার “সবকা সাথ, সবকা বিকাশ” নীতিতে বিশ্বাস করে এবং সকল সম্প্রদায়ের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সবশেষে তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সবাইকে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে এবং ভয়ের কোনো কারণ নেই।



