Kailasahar Accident News : কৈলাসহর জলাই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় শুক্রবার সকালে ঘটে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। পরিবারের অগোচরে বাড়ির ইলেকট্রিক অটো নিয়ে বের হওয়ার পর প্রাণ হারাল মাত্র ১৪ বছরের সুপ্রজিৎ মাহিষ্য দাস, যে বলেহর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও স্থানীয় বলেহর বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুপ্রজিৎ প্রায়ই পারিবারিক ই–অটো চালাতে অভ্যস্ত ছিল। সেদিনও কাউকে কিছু না জানিয়ে সে অটোর চাবি নিয়ে বের হয়ে যায়। তার পিছনে আরও দুইজন শিশু বসা ছিল। বাড়ি থেকে কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর একটি মোড় ঘোরানোর সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি রাস্তার মাঝে উল্টে পড়ে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে অটোর গাড়িটি সুপ্রজিতের উপরেই চাপা পড়ে যায়, যদিও তার সঙ্গে থাকা দু’জন সামান্য আঘাত পেয়েই বেঁচে যায়।
ঘটনা প্রত্যক্ষ করা স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহত সুপ্রজিতকে উদ্ধার করে কৈলাসহর ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পরিবার হাসপাতালে পৌঁছে কান্নায় ভেঙে পড়ে।
ঘটনার পর কৈলাসহর থানার পুলিশ হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে তদন্ত শুরু করে। নিয়ম অনুযায়ী মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্তে আপত্তি জানানো হলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতাল চত্বরে। তাদের দাবি—এই দুর্ঘটনা নিয়ে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই, তাই ময়নাতদন্তের প্রয়োজন নেই।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কৈলাসহর থানার সেকেন্ড ওসি উজ্জ্বল চৌধুরী ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরিবেশ শান্ত করেন।
নাবালক সুপ্রজিতের আকস্মিক মৃত্যুতে গোটা জলাই ও আশপাশের এলাকায় নেমে এসেছে শোক ছায়া। স্থানীয়রা বলছেন, এমন অকাল মৃত্যু সবাইকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
কৈলাসহরের শান্ত গ্রামাঞ্চলে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল—নাবালকদের হাতে যেকোনো যানবাহন দেওয়া কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। সুপ্রজিতের অকাল মৃত্যুর শোক গোটা এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। পরিবার, প্রতিবেশী ও সহপাঠীরা এখনও এই মর্মান্তিক ঘটনাকে মেনে নিতে পারছেন না। ভবিষ্যতে যেন এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে সকলের আরও সচেতন হওয়া জরুরি।



