খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Thursday, 26 March 2026 - 10:00 PM
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ - ১০:০০ অপরাহ্ণ

Jampuijala Electricity News : পুরনো মিটার বসিয়ে অন্যের বকেয়া বিল চাপানোর অভিযোগ, জম্পুইজলা বিদ্যুৎ নিগমের বিরুদ্ধে সরব গরিব কৃষক

Jampuijala Electricity News
1 minute read

Jampuijala Electricity News : ত্রিপুরার সিপাহীজলা জেলার জম্পুইজলা মহকুমায় বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে আবারও বড়সড় অভিযোগ সামনে এল। এবার অভিযোগের কেন্দ্রে জম্পুইজলা বিদ্যুৎ নিগম অফিস, যেখানে এক গরিব কৃষকের উপর অন্যের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

ভুক্তভোগী সুশান্ত সরকার, যুগল কিশোরনগর রায়পাড়া এডিসি ভিলেজের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন কৃষক। প্রায় তিন-চার বছর আগে উঁচু টিলা থেকে নিচে মাটি কেটে নতুন বাড়ি তৈরি করেন তিনি। নতুন বাড়িতে বসবাস শুরু করার কিছুদিন পর বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করেন। অভিযোগ, বিদ্যুৎ নিগমের কর্মীরা তার বাড়িতে নতুন মিটার না দিয়ে একটি পুরনো ব্যবহৃত মিটার বসিয়ে দেন।

সুশান্ত সরকারের দাবি, মিটারটি বসানোর সময় তিনি কর্মীদের কাছে জানতে চান এটি ব্যবহার করলে কোনো সমস্যা হবে কিনা। তখন কর্মীরা আশ্বস্ত করে জানান, এতে কোনো সমস্যা হবে না এবং নতুন মিটার এলেই তা পরিবর্তন করে দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে ঠিক উল্টো।

বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার পর প্রথম মাসেই তার হাতে আসে প্রায় ১৫ হাজার টাকার বিল। এত বিপুল অঙ্ক দেখে হতবাক হয়ে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, যে মিটারটি তার বাড়িতে লাগানো হয়েছে সেটি আগে অন্য কারোর ব্যবহৃত ছিল এবং সেই মিটারে পূর্বের বকেয়া বিল জমে ছিল। সেই বকেয়া বিলই তার নামে দেখানো হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে তিনি জম্পুইজলা বিদ্যুৎ নিগম অফিসে যোগাযোগ করলে, অভিযোগ অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষ জানায়—মিটারের সঙ্গে যুক্ত বকেয়া বিল এখন তার দায়িত্ব, এবং সেই টাকা তাকেই পরিশোধ করতে হবে। এই উত্তর শুনে কার্যত ভেঙে পড়েন সুশান্ত সরকার।

তিনি জানান, “আমি একজন সাধারণ কৃষক। কৃষি কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাই। এত বড় অঙ্কের বিল আমি কীভাবে দেব?” বাধ্য হয়ে তিনি অল্প অল্প করে টাকা পরিশোধ করতে শুরু করেন। বর্তমানে সেই বকেয়া বিল এখনও ১২ হাজার টাকার বেশি রয়েছে।

ঘটনার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বিদ্যুৎ দপ্তরের রেকর্ড অনুযায়ী, তার বাড়িতে নাকি ২০০৮ সাল থেকেই বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। অথচ সুশান্ত সরকারের দাবি, তিনি তখন ওই বাড়িতে থাকতেনই না, বরং কয়েক বছর আগেই নতুন করে বাড়ি তৈরি করে সেখানে বসবাস শুরু করেছেন। ফলে রেকর্ড এবং বাস্তবের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি স্পষ্ট।

সম্প্রতি তার বাড়িতে নতুন মিটার বসানো হলেও পুরনো বকেয়া বিলের সমস্যা এখনও মেটেনি। এই পরিস্থিতিতে তিনি সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়ে পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। তিনি অভিযোগ করেন, এটি বিদ্যুৎ নিগমের পরিকল্পিত গাফিলতি বা গ্রাহকদের “পকেট কাটার” একটি কৌশল।

সুশান্ত সরকারের আরও দাবি, শুধু তার ক্ষেত্রেই নয়, এলাকায় এমন আরও অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। যদিও প্রশাসনের তরফে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

তিনি রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবেদন জানিয়েছেন, যাতে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হয় এবং অন্যের বকেয়া বিল তার উপর থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তার বক্তব্য, “অন্য কারোর বিদ্যুৎ বিল আমি বহন করতে পারব না। এটা সম্পূর্ণ অন্যায়।”

এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—বিদ্যুৎ পরিষেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এমন গাফিলতি কীভাবে ঘটছে? এবং এর দায়ভার কে নেবে?

এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন ও বিদ্যুৎ দপ্তর এই অভিযোগকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং ভুক্তভোগী কৃষক সুশান্ত সরকারের সমস্যার সমাধানে কত দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

For All Latest Updates

ভিডিও