Ghilatali News : ঘিলাতলীতে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে জলিল রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করল দুই মূল অভিযুক্ত। সোমবার রাতে কল্যাণপুর থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে তারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় নতুন মোড় এসেছে। ইতিপূর্বে এই মামলায় পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। এবার আরও দুই মূল অভিযুক্তের আত্মসমর্পণের ফলে মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কল্যাণপুর থানাধীন ঘিলাতলী এলাকায় গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হন জলিল রহমান। স্থানীয় কয়েকজনের মারধরে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। পরবর্তীতে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে একজন মানুষকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ দেখা দেয়।
ঘটনার পরপরই তদন্তে নেমে পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। তবে অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে চিহ্নিত মূল অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিল। তাদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের বিলম্ব হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা ও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। পুলিশের সক্রিয়তা নিয়েও সমালোচনা ও নানা জল্পনা তৈরি হয়।
এদিকে, মামলার তদন্তের স্বার্থে পুলিশ অভিযুক্তদের পরিচয় ও তদন্তসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ্যে আনতে সতর্কতা অবলম্বন করছে বলে জানা গেছে। অবশেষে সোমবার রাতে আত্মগোপনে থাকা দুই মূল অভিযুক্ত নিজেরাই কল্যাণপুর থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে। তাদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মামলার তদন্তে নতুন গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কল্যাণপুর থানার ওসি আশিস সরকার জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণকারী দুই মুখ্য অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার পুলিশি রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে সমস্ত দিক খোলা রেখে এগোচ্ছে তদন্তকারী দল। জলিল রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠছে বিভিন্ন মহলে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করা সম্ভব হয় কি না।






