GB Bipin Debbarma : ত্রিপুরায় নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হলেও রাজনৈতিক অশান্তি থামার নাম নিচ্ছে না। সোমবার গভীর রাতে খোয়াই জেলার তুলা শিখর এলাকায় বিজেপির একাধিক কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হন বিজেপি কর্মী তুষার দেববর্মা সহ মোট তিনজন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলাটি সংঘটিত হয় হঠাৎ করেই এবং এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে আগরতলার জিবি রেফারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। মঙ্গলবার হাসপাতালে গিয়ে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন বিজেপির প্রদেশ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আহতদের পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিপিন দেববর্মা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তিপ্রা মথার কর্মীরাই এই হামলার সঙ্গে যুক্ত এবং নির্বাচন ফলাফল ঘোষণার আগেই এ ধরনের সহিংসতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তার দাবি, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্ত পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “এখনও নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়নি, তার আগেই এভাবে দাঙ্গা-ফ্যাসাদ ছড়ানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু জনগণ সবকিছু দেখছে এবং সময়মতো এর জবাব দেবে।”
বিপিন দেববর্মা অভিযোগ করেন, হামলায় শুধু কর্মীরাই নন, তাদের পরিবারের সদস্যরাও আক্রান্ত হয়েছেন। এক মহিলার ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এ ধরনের ঘটনাকে কি কোনওভাবেই ‘থানসা’ বা শান্তির বার্তা বলা যায়? তিনি বলেন, “একজন মা ও সাধারণ মানুষকে আক্রমণ করা কোনও রাজনীতির অংশ হতে পারে না।”
এছাড়াও তিনি দাবি করেন, অতীতের কিছু ঘটনাতেও রাজনৈতিক মতভেদের কারণে পারিবারিক সম্পর্ক পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক সংকেত। তার মতে, এই ধরনের সহিংসতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, দোষীদের কাউকেই রেহাই দেওয়া উচিত নয় এবং তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানান, সমাজবিরোধী ও সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বয়কট করার জন্য।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খোয়াই জেলার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এ ধরনের ঘটনা ত্রিপুরার রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়।



