মুখ্যমন্ত্রীর মঞ্চে স্থান হল না প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক ডঃ দিলীপ দাসের! প্রকাশ্যে গোষ্ঠীকোন্দল? : ‘সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলা’—রাজনীতির ময়দানে এই বার্তা বারবারই দিতে দেখা যায় বিজেপি নেতৃত্বকে। কিন্তু রবিবার রাজধানীর পুরাতন মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেখা গেল ভিন্ন ছবি। মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা মঞ্চে উপস্থিত থাকলেও সেই মঞ্চে স্থান হল না বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক তথা চিকিৎসক ডঃ দিলীপ দাসের। অনুষ্ঠানে মঞ্চের পরিবর্তে সাধারণ দর্শক-শ্রোতাদের সারিতে বসে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। আর এই ঘটনাকে ঘিরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজ্য বিজেপির অন্দরমহলের সমীকরণ নিয়ে।
মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় সুপ্রা মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রবিবার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে দলের একাধিক নেতা, ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি ছিল। কিন্তু প্রাক্তন বিধায়ক ডঃ দিলীপ দাসের অবস্থান ছিল মঞ্চের বাইরে, অন্যান্য দর্শক-শ্রোতার সঙ্গে। বিষয়টি নজরে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
ডঃ দিলীপ দাস শুধু বিজেপির প্রাক্তন বিধায়কই নন, পেশায় তিনি একজন চিকিৎসকও। ফলে একই দলের একজন প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি এবং চিকিৎসককে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মঞ্চে কেন রাখা হল না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এটি শুধুই অনুষ্ঠান পরিচালনার বিষয়, নাকি এর পিছনে রয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ—তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বিজেপির অন্দরমহলের গোষ্ঠীকোন্দল নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। দলের বিভিন্ন স্তরে নেতাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে কি না, কিংবা সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো পক্ষকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কি না—এসব প্রশ্নও সামনে আসছে।
বিশেষ করে একসময় নির্বাচনে দলের হয়ে লড়াই করা এবং বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা একজন নেতাকে এমন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে মঞ্চের বাইরে বসে থাকতে দেখা যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিরোধী শিবিরও এই ঘটনাকে বিজেপির ‘অন্দরমহলের বিভাজনের ছবি’ হিসেবে তুলে ধরতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে ডঃ দিলীপ দাসকে মঞ্চে না রাখার পিছনে প্রকৃত কারণ কী, তা নিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা সামনে না এলে গুঞ্জন আরও বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এটি নিছক প্রোটোকলের বিষয়, নাকি দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণের বহিঃপ্রকাশ—সেই প্রশ্নের উত্তর এখন সময়ের অপেক্ষা।
একদিকে ‘সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলার’ বার্তা, অন্যদিকে একই দলের প্রাক্তন বিধায়কের মঞ্চের বাইরে অবস্থান—রবিবারের এই দৃশ্য তাই রাজ্য বিজেপির অন্দরমহলের রাজনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার দরজা খুলে দিল।






