Dharmanagar By Election News : আসন্ন ৫৬-ধর্মনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে উত্তর ত্রিপুরার এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে। ভোটের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, ততই সংগঠনকে মজবুত করতে মাঠে নামছে রাজনৈতিক দলগুলি। এই প্রেক্ষাপটে বুধবার ধর্মনগরে বিজেপির মহিলা মোর্চার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল এক বৃহৎ সমাবেশ ও সাংগঠনিক কর্মসূচি, যা কার্যত শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত হয়।
জেলা বিজেপির তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক মহিলা কর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দলীয় নেতৃত্বের মতে, নারী ভোটারদের সংগঠিত করা এবং তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই ছিল এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিশিষ্ট নেত্রী তথা বিধানসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণী রায় এবং ক্যাবিনেট মন্ত্রী সুধাংশু দাস। এছাড়াও জেলা ও মণ্ডল স্তরের একাধিক নেতৃত্ব এবং মহিলা মোর্চার পদাধিকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতারা রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন নারী কল্যাণমূলক প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। তাঁদের দাবি, গত কয়েক বছরে নারীর ক্ষমতায়ন, স্বনির্ভরতা এবং সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটেছে। এই উন্নয়নের ধারাকে বজায় রাখতে হলে উপনির্বাচনে বিজেপির জয় অত্যন্ত জরুরি বলেও তাঁরা মত প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী সুধাংশু দাস তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানান, “এই উপনির্বাচনে মহিলা মোর্চার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণই দলের জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা নেবে।” তিনি কর্মীদের ঘরে ঘরে পৌঁছে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে কল্যাণী রায় তাঁর বক্তব্যে আবেগঘনভাবে স্মরণ করেন প্রয়াত বিধানসভা অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেনকে। তিনি বলেন, “বিশ্ববন্ধু সেন মহোদয়ের প্রয়াণে ধর্মনগর কেন্দ্র শূন্য হয়েছে। সংবিধানের নিয়ম মেনে এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী ৯ এপ্রিল এই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ হবে এবং বিজেপি জহর চক্রবর্তীকে প্রার্থী করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “জহর চক্রবর্তী একজন দীর্ঘদিনের নিষ্ঠাবান কর্মী, সজ্জন ও পরোপকারী মানুষ। তিনি কখনও ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য দলের কাছে কিছু দাবি করেননি। দল তাঁর এই নিষ্ঠার যথাযথ মূল্যায়ন করেছে।” তাঁর দাবি, অতীতের রেকর্ড ভেঙে বিপুল ভোটে জয়ী হবেন বিজেপি প্রার্থী।
কল্যাণী রায় এদিন মহিলা ভোটারদের গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন। তাঁর কথায়, “এই কেন্দ্রে মোট ভোটারের অর্ধেকের বেশি মহিলা। আজকের এই বিশাল উপস্থিতি প্রমাণ করে দিচ্ছে, মহিলারাই এবার নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে চলেছেন। তাঁরা উন্নয়নের পক্ষেই রায় দেবেন।”
সমাবেশে উপস্থিত মহিলা কর্মীদের উৎসাহ ও উদ্দীপনা স্পষ্ট ছিল। অনেকেই জানান, সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা তাঁরা সরাসরি পেয়েছেন এবং সেই অভিজ্ঞতাই তাঁদের আরও সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৫৬-ধর্মনগর আসনটি এই উপনির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আসন ধরে রাখা বিজেপির কাছে মর্যাদার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সংগঠনের প্রতিটি স্তরে জোরদার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে লক্ষ্য করে এ ধরনের সমাবেশ যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তা স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে, ধর্মনগরে অনুষ্ঠিত এই মহিলা মোর্চার সমাবেশ শুধুমাত্র একটি সাংগঠনিক কর্মসূচি নয়, বরং উপনির্বাচনের আগে বিজেপির শক্তি ও প্রস্তুতির একটি স্পষ্ট বার্তা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এখন দেখার, আগামী ৯ এপ্রিলের ভোটে এই সংগঠনিক জোর কতটা প্রভাব ফেলে ফলাফলে।



