CPIM Jitendra Choudhury : প্রয়াত শিক্ষক ড. অজিত রায় চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে যোগেন্দ্রনগর সিপিআই(এম) পার্টি অফিসে আয়োজিত হয় এক ভাবগম্ভীর রক্তদান শিবির। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রয়াত শিক্ষকনেতার স্মৃতি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের সূচনাতেই তিনি অজিত রায় চৌধুরীর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। রক্তদানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কর্মীদের উৎসাহ ছিল নজরকাড়া এবং এই উদ্যোগের মাধ্যমে মোট ৩২ জন স্বেচ্ছাসেবক স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যোগেন্দ্রনগর পার্টি অফিসে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক হিংসার প্রেক্ষাপটে এই রক্তদান শিবিরটি কেবল এক সামাজিক কর্মসূচি নয়, বরং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সিপিআই(এম)-এর নিবিড় জনসংযোগ গড়ে তোলার এক শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে রূপ নেয়।
রক্তদান শিবিরে উপস্থিত দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তীব্র রাজনৈতিক ক্ষোভ ও সমালোচনা প্রকাশ করেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, যুগে যুগে যারা মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের সপক্ষে সরব হয়েছেন, তাদের উপরই শাসকশ্রেণীর অন্যায় নির্যাতন নেমে এসেছে। প্রয়াত ড. অজিত রায় চৌধুরীও সেই অন্যায় ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমানের সংকটময় পরিস্থিতিতে অজিত রায় চৌধুরীর আদর্শ ও লড়াইয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে শামিল হতে হবে।
প্রসঙ্গত, দিনকয়েক আগেই এই যোগেন্দ্রনগরের সিপিআই(এম) পার্টি অফিসে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে, যা কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সিপিআই(এম)-এর পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয় যে, শাসকদল বিজেপির আশ্রিত দুর্বৃত্তরা এই হামলা চালিয়েছে। নিজেদের দাবির সপক্ষে তারা সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ্যে এনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। যদিও শাসকদল বিজেপি এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে খারিজ করে দেয় এবং পাল্টা দাবি করে যে, তাদের আয়োজিত এক ধন্যবাদ পদযাত্রায় সিপিআই(এম) কর্মীরাই হামলা চালিয়েছিল।
এই পাল্টা-পাল্টি অভিযোগের জেরে যোগেন্দ্রনগর এলাকায় এখনো থমথমে পরিবেশ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হামলার ভয়ে গুটিয়ে না থেকে সিপিআই(এম) নেতৃত্ব সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পথ বেছে নেয়। এই পরিস্থিতিতে আয়োজিত রক্তদান শিবিরে সাধারণ মানুষের বিপুল উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে বাম নেতৃত্ব। অনুষ্ঠানে বিরোধী দলনেতা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক রামু দাস, অঞ্চল সম্পাদিকা নীলাঞ্জনা রায়, ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক নবারুণ দেবসহ বামপন্থী সংগঠনের একাধিক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি একদিকে যেমন অজিত রায় চৌধুরীর রাজনৈতিক আদর্শকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে, অন্যদিকে যোগেন্দ্রনগরে সিপিআই(এম)-এর সংগঠনকে পুনরায় চাঙ্গা করার এক বার্তা পৌঁছে দেয়।






