Boxanagar Child News : ত্রিপুরার বক্সনগরে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। মাত্র ১১ বছরের এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। অভিযোগের তীর তারই আত্মীয়, মামী জান্নাত আক্তারের দিকে। শিশুটিকে ঠান্ডা পানীয়র সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত শনিবার সকালে আলিফ হোসেন (১২), পিতা শেখ ফরিদ, বাড়ি আশাবাড়ি ৫ নং ওয়ার্ড, বেড়াতে যায় রহিমপুরে তার নানার বাড়ি ফিরোজ মিয়ার কাছে। পরিবারের দাবি, সেখানেই ঘটেছে এই নৃশংস ঘটনা। ঘটনার দিন প্রচণ্ড গরমে তৃষ্ণার্ত আলিফকে ঠান্ডা পানীয় দেন তার মামী জান্নাত। অভিযোগ, সেই পানীয়তে ইঁদুর মারার বিষ মেশানো ছিল। প্রথমে সেই পানীয় খান আলিফের নানা ফিরোজ মিয়া, কিন্তু পুরোটা না খেয়ে তা আলিফকে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আলিফ অসুস্থ হয়ে পড়ে।
আলিফের পেটে তীব্র ব্যথা, বমি ও অন্যান্য বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে, প্রথমদিকে ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে গেলেও তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। পরে সন্ধ্যায় বাবা শেখ ফরিদ এসে ছেলেকে বক্সনগর সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখান থেকে দ্রুত তাকে আগরতলার জিবিপি হাসপাতালে পাঠানো হয়। দীর্ঘ পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে বৃহস্পতিবার সকালে মারা যায় শিশু আলিফ।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত জান্নাত আক্তার নিখোঁজ হয়ে যায়। পুলিশের আশঙ্কা, সে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালাতে পারে। ইতিমধ্যে সীমান্তবর্তী থানা ও বিএসএফকে সতর্ক করা হয়েছে।
জানা গেছে, জান্নাতের বিয়ে হয়েছিল চার মাস আগে। তবে বিয়েতে তার মত ছিল না। প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক, শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে কলহ—এসব মিলিয়েই পারিবারিক অশান্তি চলছিল দীর্ঘদিন। এর আগেও বিষ দিয়ে শ্বশুর-শাশুড়িকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের আবহ। শিশুটির পরিবার দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জান্নাতকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা চলছে।
এক নিষ্পাপ শিশুর এমন নির্মম পরিণতি শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজকে হতবাক করে দিয়েছে। এখন সবার একটাই দাবি—দোষী যত শক্তিশালীই হোক, আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।



