খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Wednesday, 1 April 2026 - 11:26 PM
বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬ - ১১:২৬ অপরাহ্ণ

Bishalgarh The Epitom Of Terror : সন্ত্রাস সেই যুগের পর যুগ ধরে, আজো কেন কালিমালিপ্ত বিশালগড় ?

Bishalgarh The Epitom Of Terror
1 minute read

Bishalgarh The Epitom Of Terror : ত্রিপুরার ৮ জেলা, ২৩ মহকুমা , ৬০ বিধানসভা , ২৮ স্বশাসিত জেলা পরিষদ। তার মধ্যে অন্যতম এবং সর্বাপেক্ষা চর্চিত একটি নাম “ বিশালগড় “ । আজ নতুন করে নয়, সেই ৮০র দশক কিংবা তার ও আগে থেকে বিশালগড় হয়ে উঠেছে এ রাজ্যে এক ভয়ের নাম। গোটা রাজ্য ও রাজ্যের ইতিহাস নিয়ে তো বহু পুস্তক, কাব্য , গ্রন্থ লেখা হয়েছে। কিন্তু এই বিশালগড় ও তার বুকে একের পর এক ঘটে চলা সন্ত্রাস নিয়ে লিখলে হয়তো আরো একটি নতুন কাব্য রচনা করা যাবে।

২০২৩ এর বিধানসভা ভোটে বিশালগড়ের আম জনতা বুকে এক গুচ্ছ আশা বেধে বিজেপির প্রতীক পদ্ম চিহ্নে ভোট দিয়ে ছিল। বিশালগড় পেয়েছিল দীর্ঘ বাম শাসন থেকে মুক্তি। কিন্তু সেদিন হয়তো তারা ভাবেন নি তাদের এই আশায় সেগুরে বালি ঢালার মত অবস্থা হবে মাত্র কয়েক বছরেই। যে বাম, সেই রাম। কোনো আমলেই বিশালগড়ের ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি। শুধু জননেতার মুখ পালটেছে। পতাকার রঙ আর পার্টি অফিসে যাতায়াতের রাস্তা পালটেছে । সার্বিক ভাবে বিশালগড় আজো রক্ত খেকো দের আস্তানা।

শুরু টা হয় ১৯৮০ সালে। রাজ্যে তখন বাম শাসন। বিরোধী শিবিরে কংগ্রেস। বিজেপির অস্তিত্ব ছিল বটে তবে তা ছিল প্রায় শূন্য সম। সেই ১৯৮০ সালে বিশালগড়ের বাম বিধায়ক গৌতম দত্ত। রাজনৈতিক রেশ মেটাতে গিয়ে বিরোধী শিবিরের কতিপয় দুষ্কৃতি পরিকল্পিত ভাবেই গৌতম দত্ত কে পথ থেকে সরিয়ে দেয়। এমনটাই অভিযোগ করেন বামেরা। উপ নির্বাচন হয়। আর তাতে জয়ী হয় বিরোধী কংগ্রেস দলের পরিমল সাহা। যাকে গৌতম দত্ত হত্যাকাণ্ডের মুল মাস্টার মাইন্ড হিসেবে ধরা হয় এবং ১৯৮৩ সালে তাকেও দুষ্কৃতি দের হাতে খুন হতে হয়।

এর পর ১৯৮৮ সালে ত্রিপুরায় জোট সরকার প্রতিষ্ঠিত হবার পর থেকে বিশালগড় সহ গোটা রাজ্য এক চরম দুর্বিষহ যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে কাটিয়েছে। সেই নিয়ে পত্র পত্রিকা এবং তৎকালের বহু নথি আজো রয়েছে। এরপরেই ১৯৯৩ সালে রাজ্যে পুনরায় বাম সরকার গঠিত হয়। যা টানা ২৫ বছর রাজ্যে ক্ষমতা ধরে রাখে।

১৯৯৩ সালের পর থেকে ২০১৮ সালের আগ পর্যন্ত গোটা রাজ্যে বিক্ষিপ্ত ভাবে বহু ঘটনা ঘটলেও জোট আমল কিংবা ১৯৮০ সালের মত নৃশংস তম মৃত্যু মিছিল ঘটেনি বলেই তথ্য সুত্রের দাবি। কিন্তু বর্তমানে বিজেপি শাসিত রাজ্যে আবারো নতুন করে সেই ১৯৮০ সালের ভয়াবহ পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি নিয়ে আশংকা ঘনীভূত হচ্ছে। আর তার এক ঝলক মিলেছে এবার সেই বিশালগড় থেকেই।

সাম্প্রতিক বিশালগড়ে নেশা কারবার , গুলি , পিস্তল পাচার, গরু পাচার, চিনি পাচার ইত্যাদি মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়েছে বলেই অভিযোগ বিরোধী শিবিরের। তার উপর ইদানিং কমিশনের টাকা লেনদেন কে ঘিরে নেতাজী নগরে এক ঠিকেদারের বাড়িতে গুলি বাজি এবং অপর ঠিকেদার কে প্রান নাশের হুমকি দেবার ঘটনা রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই অবস্থায় বিশালগড় বাসীর মনে আতংকের পরিবেশ।

ঘটনাবলী নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং গুলি কাণ্ডে প্রাইম একিউজড রণবীর দেবনাথ কে গ্রেফতারীর আদেশ দিলেও আজ অব্দি সে অধরা। যা স্বভাবতই পুলিশের ভুমিকা কে প্রশ্ন চিহ্নের মুখে দাড় করিয়েছে। এদিকে গোটা বিশালগড় জুড়ে আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত হবার অভিযোগ তুলে বিরোধী বাম শিবির জেলা শাসক এর নিকট ডেপুটেশান দেয় এবং আরক্ষা প্রশাসন কে পুতুল সাজিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। আর তার ঠিক পরেই বিশালগড় এর রাজপথে এই প্রসস্থ নাটক মঞ্চস্থ করে বিক্ষোভ রেলি দেখায় বিজেপি মণ্ডল।

বিশালগড়ে চলমান অপরাধ নিয়ে কোনো কথা না বললেও নিয়ম করে বিরোধী দের দিকে একের পর এক অভিযোগের আঙ্গুল তুলে দিয়ে বিশালগড়ের রাজপথ দাপিয়ে এক বিক্ষোভ মিছিল করে মণ্ডল বিজেপি। তাদের দাবি বিশালগড়ে যা কিছু অপরাধ হচ্ছে তার পেছনে কংগ্রেস ও সিপিআইএম এর ষড়যন্ত্র রয়েছে। বলে রাখা ভালো, বাম আমলে কিংবা তার পূর্বে যারা কংগ্রেসি ছিলেন তাদের অধিকাংশই আজ পদ্ম শিবিরে।

এদিকে বিশালগড় জুড়ে বড় বড় ফ্লেক্স আর ফেস্টুন লাগিয়ে বিজেপি প্রচার করছে বাম সন্ত্রাসের বলি কারা কারা হয়েছে সেই তালিকা। কিন্তু তাতেও নাকি ব্যাপক হারে মিথ্যে অপ প্রচার করা হয়েছে এবং ভুয়া বানানো তথ্য দেওয়া হয়েছে এমনটাও অভিযোগ করেছেন বিশালগড় সিপিআইএম এর মহকুমা সম্পাদক পার্থ প্রতীম মজুমদার।

তালিকা টিতে যাদের নাম দেওয়া হয়েছে তাতে রয়েছে –
দিলীপ দাস, নেহাল চন্দ্র নগর।
শুকলাল দাস, নেহাল চন্দ্র নগর।
বিধায়ক পরিমল সাহা।
খোরশেদ আলম, প্রভুরামপুর।
রবীন্দ্র দাস, চেলিখলা।
মাখন লাল।
রঞ্জিত দাস, চন্দ্র নগর।
মাখন লাল সরকার, লক্ষীবিল।
পবিত্র দাস, চন্দ্র নগর।
হাসান হোসেন ।
রসরাজ দাস, কার্ত্তিক পাল।
বাচ্চু দাস, লক্ষ্মীবিল।
রসরাজ ভট্টাচার্য।
সাধন ঘোষ।
জিতু দেবনাথ , জাঙ্গালিয়া প্রমুখ।

যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে একাধিক নাম ও এমন কোনো ব্যক্তি কিংবা ঘটনার অস্তিত্ব নেই বলেই দাবি করেছেন মহকুমা সম্পাদক পার্থ প্রতীম মজুমদার। জার মধ্যে খোরশেদ আলম, হাসান হোসেন উল্লেখনীয়।
এছাড়াও , উপরিউক্ত তালিকা ভুক্ত দের অধিকাংশই ছিলেন বাম কর্মী সমর্থক। যাদের কে বাম আমলেই কংগ্রেসের স্বৈরাচারী দুষ্কৃতি দ্বারা প্রান হারাতে হয়েছে বলে দাবি সিপিআইএম এর। এছারাও বহু বাম কর্মীরা জোট আমলে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শিকার হয়ে মৃত্যু বরন করেছেন। কিন্তু তাদের নাম উল্লেখ করাই হয়নি এই তালিকায় এমনটাও অভিযোগ রয়েছে।

তার মধ্যে রয়েছে, গৌতম দত্ত ( বাম বিধায়ক , মৃত্যু ১৯৮০ সাল), ফুল্কন মিয়া ( মৃত্যু ১৯৯১ সাল ), ফুল্কন কাজী ( মৃত্যু ১৯৯৩ সাল ) , খোরশেদ আলম ( মৃত্যু ১৯৮৩ সাল ), মফিজ মিয়া ( ১৯৮৯ সাল ), মদন দাস ( ২০১৯ সাল ) , শহীদ মিস ( ২০২২ সাল )। এরা প্রত্যেকেই বাম কর্মী সমর্থক ছিলেন এবং উল্লেখযোগ্য বিষয় ২০১৮ সালে সরকার পরিবর্তনের পরেও দুজন কে দিনের আলোয় নৃশংসভাবে মারা হয়।

এছাড়াও , যে পোস্টার লাগিয়ে বিশালগড়ে প্রচার চালানো হচ্ছে তার মধ্যে উল্লিখিত ব্যক্তি দের মধ্যে অধিকাংশই রাজনৈতিক সন্ত্রাস বহির্ভূত কারনে মৃত্যু বরন করেছেন বলেও দাবি করেছেন মহকুমা সম্পাদক পার্থ প্রতীম মজুমদার।

সব চাইতে বড় বিষয়, কোন আমলে কতটা সন্ত্রাস হচ্ছে কিংবা তার তীব্রতা কতটা তা দ্বিতীয় বিষয়। প্রথমত, সন্ত্রাস হচ্ছে টাই বা কেন ? বাম আমল কিংবা জোট আমলের ধারা কে পাল্টে দেওয়া যেতো না কি ? রাজ্যে শান্তি কায়েম ও বামেদের অপশাসন এর অবসান ঘটাবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যে দল বর্তমানে সরকারে আছে সেই সরকারের আমলে এখন কেন সন্ত্রাস দমনের নাম নিচ্ছে না ? কেন প্রতিনিয়ত খবরের শিরোনামে বিশালগড় ? অস্ত্রের ঝলকানি, গুলিবাজি, মানব পাচার ইত্যাদি ঘটনাবলী কি বিরোধী দের সাজানো আদৌ হতে পারে ? নাকি নিজেদের ভুল ত্রুটি ও অপরাধ ঢাকতে সন্দেহের কাঁটা বিরোধীদের ঘুরিয়ে দেবার চেষ্টা মাত্র ?

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল মনে করেন, আম জনতা সব কিছুরই হিসেব রাখেন। ২৫ বছরের বাম শাসনের পতন যেমন গণদেবতাদের সিদ্ধান্ত ছিল তেমনি আগামী তেও এ রাজ্যের ভাগ্য নির্ধারণ তারাই করবেন।

For All Latest Updates

ভিডিও