Bishalgarh Congress Bhawan : ত্রিপুরার বিশালগড়ে প্রাক্তন বিধায়ক পরিমল সাহার ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আবেগঘন পরিবেশে পুনরুদ্ধার করা হল দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত কংগ্রেস ভবন। মঙ্গলবার সকালে কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা একত্রিত হয়ে প্রয়াত নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন কংগ্রেস নেতা নিগমানন্দ গোস্বামী।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের পর থেকে বিশালগড়ের এই কংগ্রেস ভবনটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। একাধিকবার দুষ্কৃতীদের হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের ঘটনায় ভবনটি প্রায় অচল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ আট বছর পর স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্বের উদ্যোগে অবশেষে ভবনটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নেতৃত্বে ছিলেন আরেক প্রবীণ কংগ্রেস নেতা দিগমানন্দ গোস্বামী।
প্রসঙ্গত, ১৯৮৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে চরিলাম কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন যুব কংগ্রেসের লড়াকু নেতা পরিমল সাহা। কিন্তু সেই বছরই ৭ এপ্রিল বিশালগড়ের অফিসটিলা এলাকায় তৎকালীন শাসক দলের ঘাতক বাহিনীর হাতে প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংসভাবে খুন হন তিনি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী জিতেন্দ্র সাহা। এই ঘটনায় তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে আলোড়িত হয়েছিল।
মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে নিগমানন্দ গোস্বামী বলেন, “পরিমল সাহা সবসময় বলতেন, মানুষের কাছে নত হয়ে থাকলেই প্রকৃত নেতা হওয়া যায়। তাঁর এই আদর্শকে সামনে রেখেই আমরা আগামী দিনে এগিয়ে চলব।” তিনি আরও জানান, প্রয়াত নেতার স্মৃতিকে অম্লান রাখতে এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এই পুনরুদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে কংগ্রেস ভবনে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পর একটি মৌন মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ভবন থেকে প্রয়াত বিধায়কের সমাধিস্থল পর্যন্ত যায়, যেখানে আবারও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আরাফাত ইকবাল, যুব কংগ্রেস লিগ্যাল সেলের ইনচার্জ এরশাদ মিয়া, স্থানীয় নেতা শান্তি ভট্টাচার্যসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা।
দীর্ঘদিন পর কংগ্রেস ভবনের পুনরুদ্ধার এবং প্রয়াত নেতার প্রতি এই সম্মিলিত শ্রদ্ধা নিবেদন স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। নেতাকর্মীদের মতে, এই উদ্যোগ সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়ক হবে এবং আগামী দিনে কংগ্রেসকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।



