Bharat Ratna Sangha Durga Puja : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবারও ত্রিপুরার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে ফিরছে ভারত রত্ন সংঘের ধামাকা পুজো আয়োজন। ক্লাবের সভাপতি দুর্গা প্রসন্ন দেব হত্যাকাণ্ডের পর থেকে বিগত দুই বছর বিরতির পর এ বছর নতুন উদ্যমে এবং নতুন থিমে হাজির হচ্ছে রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় পুজো আয়োজক ক্লাবটি।
১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ মুহূর্তে ক্লাবটি আয়োজন করল এক সামাজিক কর্মসূচি—স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির। এদিন শুধু রক্তদানই নয়, উন্মোচিত হলো এ বছরের পুজো থিমও। সভাপতি চন্দন চক্রবর্তী জানান, এ বছরের প্যান্ডেল তৈরি হবে হিমাচল প্রদেশের বিখ্যাত জাটুলি মন্দিরের আদলে—যা ত্রিপুরায় এই প্রথমবার। প্যান্ডেলের নকশা ও কারুকাজে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে, রাজ্যের হাজারো দর্শককে মুগ্ধ করবে এই উদ্যোগ।
প্রাক্তন বিধায়ক ডঃ দিলিপ দাসও উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে। তিনি ভারত রত্ন সংঘের সামাজিক কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “যারা মা দুর্গাকে অন্তর থেকে ভালোবাসেন, ভক্তি ও বিশ্বাস নিয়ে আসেন, তারা অবশ্যই এই পুজোয় অংশগ্রহণ করবেন।” তাঁর মতে, কেবলমাত্র সাজসজ্জা দেখতে আসা দর্শক কম হতে পারে, তবে প্রকৃত ভক্তরা প্যান্ডেলের বাহ্যিক রূপের চেয়ে আধ্যাত্মিকতাকে অগ্রাধিকার দেবেন।
ভারত রত্ন সংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের পুজোয় শুধু থিম নয়, আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতেও থাকবে বৈচিত্র্য। প্যান্ডেল সাজানোর কাজ, লাইটিং সেটআপ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই জোরকদমে চলছে। করোনা-পরবর্তী সময়ে দর্শকদের অংশগ্রহণ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও, ক্লাব কর্তৃপক্ষ আশাবাদী—আগের মতোই ভিড় জমবে এবারের পুজোয়।
উল্লেখযোগ্য যে, ক্লাব সম্পাদক দুর্গা প্রসন্ন দেব হত্যাকাণ্ডের পর গত দুই বছর এই ক্লাবের পুজো তেমনভাবে আয়োজন করা হয়নি। তবে এই মর্মান্তিক ঘটনার মামলায় জড়িত অভিযুক্তদের ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে, আর সেই দুঃসময় পেরিয়ে এবার নতুন উদ্যমে এবং পূর্ণ প্রস্তুতিতে ফিরে আসছে ভারত রত্ন সংঘ।
ত্রিপুরার পুজো মানেই এক ধরনের সামাজিক মিলনমেলা, যেখানে ধর্মীয় আচার, শিল্পকলা, সামাজিক কার্যক্রম এবং মানুষের আন্তরিকতা মিলেমিশে যায়। ভারত রত্ন সংঘের এ বছরের থিম এবং সামাজিক উদ্যোগ প্রমাণ করছে, তারা শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়, সমাজের কল্যাণেও সচেতন।
এখন চোখ রাজ্যের মানুষের দিকে—পুজোর দিনগুলোতে আবারও কি দেখা যাবে সেই প্রাণচাঞ্চল্য, যা এতদিন অপেক্ষায় ছিল? ভারত রত্ন সংঘের সদস্যরা বলছেন, “এবারের পুজো শুধু দেখা নয়, অনুভব করার মতো হবে।”