হনুমানের মূর্তি ভাঙচুরের অভিযোগ, অক্ষত শনি দেব—চারিপাড়ায় বিক্ষুব্ধ হিন্দু পরিষদ : শচীন্দ্রলাল এলাকার চারিপাড়ায় একটি শনি মন্দিরের ভিতরে থাকা হনুমানের মূর্তি ভাঙচুরের অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মন্দিরে থাকা শনি দেবের মূর্তি অক্ষত অবস্থায় থাকলেও হনুমানের মূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্তের দাবি জানিয়ে সরব হয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।
অভিযোগ, চারিপাড়ার ওই শনি মন্দিরের ভিতরে থাকা হনুমান মূর্তিতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যরা। তবে কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা প্রমাণ সামনে আসেনি। ফলে অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মন্দিরের নিরাপত্তার জন্য পাঁচটি ক্যামেরা বসানো রয়েছে। এরপরও কীভাবে মন্দিরের ভিতরে থাকা মূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলো, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। ক্যামেরাগুলিতে ঘটনার কোনো ছবি বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ধরা পড়েছে কি না, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারী সংস্থার তরফে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হলে ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভে নামে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সংগঠনের সদস্যদের অভিযোগ, এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; এর পিছনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো কর্মকাণ্ড রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। তবে কোনো সম্প্রদায় বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর পক্ষেও মত রয়েছে সচেতন মহলের।
অন্যদিকে, আরও একটি অভিযোগকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দাবি, এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে স্থানীয় শাসকদলের নেতৃত্বের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত হনুমান মূর্তিটি দ্রুত মেরামতের জন্য সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মূর্তি সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের বক্তব্য, ঘটনার তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মূর্তিটি সরিয়ে নেওয়া হলে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।
তবে মূর্তি আদৌ কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এটি ভাঙচুর নাকি অন্য কোনো কারণে ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, সেটিও অজানা। তাই ধর্মীয় আবেগকে সামনে রেখে কোনো ধরনের গুজব বা উসকানিমূলক প্রচার না করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
চারিপাড়ার এই ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদঘাটনে মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখা জরুরি। তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হোক—আসলেই কি পরিকল্পিতভাবে হনুমান মূর্তি ভাঙচুর করা হয়েছে, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ।






