Agartala Hotel Staff News : রাজধানীর বুকে ঘটে গেল আরও এক হৃদয় বিদারক ঘটনা। হোটেলে কর্মরত এক কর্মচারী মালিকের মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মঘাতী হল এবার। এমনটাই অভিযোগ উঠেছে হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে।
কামান চৌমুহনী স্থিত এক হোটেলে ১২ বছর বয়স থেকে কাজ করতো সন্তোষ নামের এক কর্মচারী। বর্তমানে তার বয়স হয়েছিল ২৮ বছর। অভিযোগ বিগত প্রায় এক মাস যাবত নানা বিষয়ে তাকে মানসিক ভাবে হেনস্থা করে চলছিল হোটেল মালিক লিটন দাস। এই নিয়ে নিজের বাড়িতে , দিদি বোনেদের ও ফোনে বহুবার জানিয়েছিল সন্তোষ।
অতঃপর তাকে সম্প্রতি দোকানে চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত করে নানা ভাবে হেনস্থা করা হয়। এতে অপমানিত হয়ে শনিবার রাতে নিজ ঘরে ফাঁসি দিয়ে আত্মঘাতী হয় সন্তোষ। ভাইকে হারানোর যন্ত্রণায় কাতর বোনের অভিযোগ হোটেল মালিকের মানসিক যন্ত্রণায় কর্মচারী সন্তোষ সাহা এই চ-রম পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু মালিক তা অস্বীকার করেছেন।
মৃতের দিদি জানিয়েছেন , যখন সন্তোষ এর ১২ বছর বয়স তখন থেকেই এই হোটেলে কাজ করছে সে। হোটেলের মালিক লিটন দাস ও তার স্ত্রীর সন্তান ছিল না। তাই সন্তোষ কে নিজের ছেলের মতোই স্নেহ করতো লিটন দাস। তাদের বাড়িতেই একটি ঘরে থাকার জায়গা করে দিয়েছিল মালিক। সেখানেই তার থাকা খাওয়া পড়ার ব্যবস্থা করেছিলেন লিটন দাস। এতো কিছুর পরেও সন্তোষ এর এই পরিণতি কিছুতেই মানতে পারছে না তার পরিবার।
অভিযোগ কিছুদিন পূর্বে হোটেলে আরও দুজন কর্মচারী নিয়োগ করা হয়। তার পর থেকেই মালিকের সাথে সন্তোষ এর সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে। ঐ দুই কর্মচারী নিতাই ও রাহুল দুজন এর কারণে নানা ভাবে সন্তোষ কে হোটেল এর বিভিন্ন কাজের অজুহাতে হেনস্থা করা হতো বলেও অভিযোগ করেছে সে।
অবশেষে সব কিছু সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলে আত্মঘাতী হয় সন্তোষ। মালিকের বাড়িতেই সিলিং পাখার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এই নিয়ে মালিক নিজেও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। যদিও পরিবারের মন্তব্য মালিক পক্ষই এই ঘটনার জন্যে দায়ী। সঙ্গে বাকি দুই কর্মচারী কেও দায়ী করা হয়েছে। যদিও তদন্ত মূলে ঘটনার পেছনের আসল রহস্য কি তা উন্মোচন হবে বলেই আশা করছেন প্রত্যক্ষ দর্শীরা।