Agartala Girls Hostel News : রাজধানী আগরতলার কৃষ্ণনগর এলাকায় অবস্থিত ভগিনী নিবেদিতা মহিলা ছাত্রী নিবাস থেকে এক বহিরাগত যুবককে আটক করেছে পুলিশ। দেবরাজ চক্রবর্তী নামে ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে এই ছাত্রাবাসে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষাঙ্গনে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত দেবরাজ চক্রবর্তী পেশায় শিক্ষক। তিনি হোস্টেল সুপারের ভাই। পারিবারিক সম্পর্ককে হাতিয়ার করে তিনি দিনের পর দিন হোস্টেলে অবস্থান করছিলেন। অথচ নিয়ম অনুযায়ী কোনও পুরুষ ব্যক্তির এই মহিলা ছাত্রাবাসে রাতযাপন সম্পূর্ণ বেআইনি।
হোস্টেলের ছাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, সুপারের আচরণ দীর্ঘদিন ধরেই অস্বস্তিকর। তাঁদের বক্তব্য, পরিবারের সদস্যরা দেখা করতে এলে সুপার তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এমনকি সন্ধ্যা পাঁচটার পর ছাত্রীদের বাইরে যাওয়া নিয়েও অকারণে চরিত্রহানির প্রশ্ন তোলা হয়। এর ফলে মানসিক চাপে ভুগতে হচ্ছে অনেককেই। ছাত্রীরা দাবি করেছেন, হোস্টেল কর্তৃপক্ষ তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে একেবারেই ব্যর্থ।
অভিযোগ উঠেছে, সুপার নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে দেবরাজ চক্রবর্তীকে হোস্টেলে রাখছিলেন। ফলে ছাত্রীরা ভয় ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছিলেন। এক ছাত্রী বলেন, “আমরা এখানে নিরাপদ থাকার জন্য হোস্টেলে উঠেছি। অথচ উল্টে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। রাতে কারা ভেতরে আছে, তা নিয়েই ভয় লাগে।”
এছাড়া ও হোস্টেলে কর্মরতদের ইচ্ছে মত হোটেল এর ফি এবং খাবারের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, এবং অতি নিম্নমানের খাবার স্টুডেন্টদের দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতেই পুলিশ হোস্টেলে হানা দেয়। অভিযানে দেবরাজ চক্রবর্তীকে আটক করা হয় এবং তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত হোস্টেল সুপারের তরফে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর। তারা মনে করছেন, ছাত্রীরা যাতে নিরাপদ পরিবেশে থাকতে পারে সেদিকে প্রশাসনকে কঠোর নজর দিতে হবে। এলাকার এক সমাজকর্মীর কথায়, “ছাত্রীদের জন্য একটি হোস্টেল মানেই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। সেখানে বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত বরদাস্ত করা যায় না।”
ঘটনার পর শিক্ষামহলে প্রশ্ন উঠেছে, ছাত্রাবাসের মতো সংবেদনশীল স্থানে কীভাবে এতদিন একজন বহিরাগত থাকলেন অথচ প্রশাসন বা শিক্ষা দফতর কোনও পদক্ষেপ নিল না। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে হোস্টেল সুপারের ভূমিকা নিয়েও খোঁজখবর চলছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভগিনী নিবেদিতা ছাত্রী নিবাসের আবাসিকরা এখনো আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তারা চাইছেন প্রশাসনের তরফে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।