ADC Runiel Debbarma : ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (এডিসি) নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ময়দানে জোর প্রচারে নেমেছে তিপ্রা মথা দল। ২০২৮ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে নিজেদের “এক্স ফ্যাক্টর” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়েই ২০২৬ সালের এডিসি নির্বাচনে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াইয়ে নেমেছে দলটি। তিপ্রাসা জনগণের দাবি আদায়, বিশেষ করে তিপ্রাসা একর্ড বাস্তবায়নসহ একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখেই প্রচার চালাচ্ছে তারা।
রবিবার ১৪ বোধজংনগর-ওয়াকিনগর কেন্দ্রের তিপ্রা মথা মনোনীত প্রার্থী ই.এম. রুনিয়েল দেববর্মা সিপাহী পাড়া ও টিংটাং এলাকায় ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে বাড়ি বাড়ি প্রচার করেন। আসন্ন ১২ এপ্রিলের নির্বাচনে দলের প্রতীক ‘আনারস’-এ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রচারে অংশ নেন লেফুঙ্গা ব্লকের সভাপতি দীপক দেববর্মা, যুব সংগঠনের ব্লক সভাপতি প্রশান্ত দেববর্মা, নারী সংগঠনের নেত্রী সাগরিকা দেববর্মা সহ হাজারো কর্মী-সমর্থক।
প্রচারের সময় রুনিয়েল দেববর্মা জানান, এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল সাড়া মিলছে। তাঁর কথায়, “১৪ বোধজংনগর-ওয়াকিনগরে আমরা যে সাড়া পাচ্ছি, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। মানুষ ১২ এপ্রিলের জন্য অপেক্ষা করছে, যাতে তারা আনারস প্রতীকে ভোট দিয়ে তিপ্রা মথাকে জয়যুক্ত করতে পারে।”
তিনি আরও দাবি করেন, এই কেন্দ্রে তিপ্রা মথা বড় ব্যবধানে জয় পাবে। তাঁর মতে, “আমরা এখানে ২৫ হাজারের মতো ভোট পাব বলে আশা করছি। অন্যদিকে সিপিএম, বিজেপি বা কংগ্রেস—কেউই আমাদের ধারেকাছে আসতে পারবে না। ১৭ তারিখের ফলাফলেই তা প্রমাণিত হবে।”
জয়ী হলে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দেন রুনিয়েল দেববর্মা। তিনি বলেন, “আমার প্রধান লক্ষ্য থাকবে মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা। গত বছর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা আমি পালন করেছি এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখব। এলাকার রাস্তা-ঘাটসহ সার্বিক উন্নয়নের জন্য যা যা করা সম্ভব, তা করা হবে।”
দলের অন্যতম প্রধান দাবি তিপ্রাসা একর্ড বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে তিপ্রাসা সমাজ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং এই ঐক্যের জোরেই তাদের দাবি পূরণ সম্ভব। তাঁর বক্তব্য, “আমরা যদি একসঙ্গে থাকি, তাহলে কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের দাবিগুলো মেনে নেবে। তিপ্রাসা একর্ড ইতিমধ্যেই স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই এর বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
এডিসি নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এই নির্বাচনে তিপ্রা মথা যদি পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ২৪-২৫টি আসনে জয়ী হয়, তাহলে ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলটি একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে উঠে আসবে। এমনকি ভবিষ্যতে রাজ্যে নিজেদের সরকার গঠনের লক্ষ্যও তুলে ধরেন তিনি।
প্রচারের শেষ পর্বে তিনি বিজেপিকে এডিসি এলাকায় শূন্য করে দেওয়ার দাবি করেন এবং দলের কর্মী-সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
এদিকে, নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই এডিসি এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। বিভিন্ন দলই জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছে, তবে তিপ্রা মথা নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে মরিয়া। এখন দেখার বিষয়, ১২ এপ্রিলের ভোট এবং পরবর্তী ফলাফল এই আত্মবিশ্বাস কতটা বাস্তবে রূপ পায়।



