Boxanagar News : সোনামুড়া মহকুমার যাত্রাপুর থানা এলাকায় গাঁজা চাষ বহুদিন ধরেই এক পরিচিত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চল থেকে শুরু করে সমতল—প্রায় সর্বত্রই গাঁজা চাষ এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে প্রশাসনের বারবার সতর্কতা সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছিল না। দীর্ঘদিন ধরে এই থানায় যেসব ওসি দায়িত্বে ছিলেন, তাদের বহু অভিযানের পরও সমস্যা ছিল বহাল তবিয়তে।
তবে নতুন ওসি সিতি কণ্ঠ বর্ধনের আগমনের পর পরিস্থিতিতে বদলের ইঙ্গিত মিলছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি এবং তাঁর পুলিশ বাহিনী গাঁজা চাষী ও কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব নিয়ে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন।
ইতিমধ্যে যাত্রাপুর থানার উদ্যোগে মোট ১১ দফা অভিযান পরিচালিত হয়েছে, যার বেশ কিছুতে বিএসএফও সহযোগিতা করেছে।
সোমবার ভোর ছ’টায় কালিখলা এডিসি ভিলেজের গভীর জঙ্গলে পুলিশ ও টিএসআর-এর যৌথ বাহিনী একটি বড়সড় অভিযান চালায়। ওসির দাবি অনুযায়ী, সেদিন অন্তত ১৫ হাজারের মতো গাঁজা গাছ কেটে ধ্বংস করা হয়েছে।
দুইটি বড় প্লটে বিস্তৃত এই গাঁজা বাগান ধ্বংসে অংশ নেন সাব-ইন্সপেক্টর প্রীতম দত্ত, এএসআই কাফুরাই দেববর্মা, অন্যান্য পুলিশ কর্মী এবং টিএসআর জওয়ানরা। ভোরের আলো ওঠার আগেই বাহিনী জঙ্গলে পৌঁছে কার্যক্রম শুরু করে এবং দুই-আড়াই ঘন্টার মধ্যেই পুরো এলাকা পরিষ্কার করে নিরাপদে থানায় ফিরে আসে।
অভিযানে নেতৃত্বদানকারী আধিকারিকদের বক্তব্য, গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পরই এই অভিযান সাজানো হয়। তারা জানান, গভীর জঙ্গলে ঢুকে একাধিক স্থানে গাঁজার চারা শনাক্ত করা হয় এবং সাথে সাথেই সবগুলো ধ্বংস করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, শুধু এদিনই নয়—এর আগেও একই এলাকায় এবং যাত্রাপুর থানার অন্যান্য অঞ্চলেও একাধিকবার গাঁজা নিধন অভিযান চালানো হয়েছে।
ওসি সিতি কণ্ঠ বর্ধন স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন—যারা গাঁজা চাষ বা কারবারের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত চলছে, এবং ভবিষ্যতেও এরকম অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
এই ধারাবাহিক উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে আশা জন্মেছে যে অবৈধ গাঁজা চাষ একসময় নিয়ন্ত্রণে আসবে।
যাত্রাপুর থানার ধারাবাহিক ও কঠোর অভিযানে অবৈধ গাঁজা চাষের বিরুদ্ধে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে বড় মাপের গাঁজা বাগান ধ্বংস হওয়ায় এলাকার অপরাধচক্রে চাপ বাড়ছে। ওসি সিতি কণ্ঠ বর্ধনের নেতৃত্বে এই অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত এই অঞ্চলে অবৈধ গাঁজা চাষ সম্পূর্ণ নির্মূলের পথ প্রশস্ত করতে পারে।



