খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Friday, 13 February 2026 - 12:47 PM
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ - ১২:৪৭ অপরাহ্ণ

Boxanagar Jaydul Hosain : পুলিশে চাকরির নামে প্রতারণা! বক্সনগরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

Boxanagar Jaydul Hosain
1 minute read

Boxanagar Jaydul Hosain : পুলিশে চাকরি দেওয়ার নাম করে পাঁচ যুবক-যুবতীর কাছ থেকে প্রায় ১০ লক্ষ টাকারও বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বক্সনগর প্রেসক্লাবের স্বঘোষিত সম্পাদক ও নামধারী সাংবাদিক, এবং ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জয়দুল হোসেনের বিরুদ্ধে।

এই ঘটনার পর বক্সনগর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগকারীরা জানান, জয়দুল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটাচ্ছিলেন এবং বিভিন্নভাবে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করতেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালে ত্রিপুরা পুলিশের কনস্টেবল পদের জন্য শারীরিক পরীক্ষা ও ভাইভা উত্তীর্ণ পাঁচ বেকার যুবক-যুবতীকে ১০০% চাকরির আশ্বাস দেন জয়দুল। এরপর বিভিন্ন সময়ে তাদের কাছ থেকে দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা করে মোট প্রায় ১০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নেন।

অভিযুক্ত জয়দুল হোসেন নিজেকে পুলিশের বড় বড় অফিসারদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দিতেন এবং নিজের বাসায় ডেকে এনে প্রার্থীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন। তিনি প্রথমে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করলেও পরে আংশিক টাকা গ্রহণ করেন এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে যে, চাকরি হলে বাকিটা নেবেন।

কিন্তু ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে রাজ্য সরকার যখন ৯৭৯ জন কনস্টেবলের নিয়োগপত্র প্রকাশ করে, তখন অভিযোগকারীদের কারোরই চাকরি হয়নি। টাকা ফেরতের দাবি জানালে জয়দুল প্রথমে এক মাসের সময় চান, কিন্তু এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও অর্থ ফেরত দেননি।

অভিযোগকারীরা জানান, তারা ধার করে বা সম্পদ বিক্রি করে টাকা জোগাড় করেছিলেন সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিক পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাবের জোরে জয়দুলের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

অবশেষে ক্ষতিগ্রস্ত যুবকেরা মঙ্গলবার রাতে কলমচৌড়া থানায় জয়দুল হোসেনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জয়দুলের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ উঠেছে। তিনি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে এলাকার মানুষ অভিযোগ করেছেন। এমনকি, তার বিরুদ্ধে স্থানীয় নেশা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি—এই মামলায় যেন যথাযথ তদন্ত হয় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক বা পেশাগত প্রভাব খাটিয়ে যাতে রেহাই না পান।

এদিকে, প্রতারিত পাঁচ পরিবার জানিয়েছে তারা প্রয়োজনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডক্টর মানিক সাহার দ্বারস্থ হবেন ন্যায়ের আশায়।

For All Latest Updates

ভিডিও