Unakoti Contractor Protest : শারীরিক ভাবে নিগৃহীত এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার এর বিরুদ্ধে মন্ত্রী ও তাঁর বড় ভাই কে কালিমালিপ্ত করার অভিযোগ এনে আন্দোলনে নামলেন ঊনকোটি জেলার ঠিকেদারেরা। উল্লেখ্য, গত ৮ই অক্টোবর এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার রনজয় দেববর্মার কুমারঘাটের কোয়ার্টারের ভিতরে ঢুকে কে বা কাহারা রনজয় দেববর্মাকে শারিরীক ভাবে নিগৃহীত করে বলে খবর চাউর হয়।
নিগ্রহের ঘটনার এতো দিন পেড়িয়ে গেলেও পুলিশ এর তদন্তে গাফিলতি এবং অভিযুক্ত দের গ্রেফতার না করার অভিযোগ উঠে আসে বারবার। উপরন্তু এই ঘটনায় নাকি মন্ত্রী সুধাংশু দাস এর বড় ভাই হিমাংশু দাস জড়িত বলেও অভিযোগ উঠে।
আজ সেই অভিযোগ খণ্ডন করে নিগৃহীত এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার রনজয় দেববর্মার বিরুদ্ধেই আন্দোলনে নামলো ঠিকেদারের এক দল। শুক্রবার প্রথমে এক বিক্ষোভ রেলি ও পরে এক সাংবাদিক বৈঠক করে এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তারা।
উল্লেখ্য, কৈলাসহরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার রনজয় দেববর্মা। নিগ্রহের ঘটনার সাথে মন্ত্রীর ভাই কে জরানোর বিষয় নিয়েই ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন এদিন ঠিকেদারেরা। তাদের মন্তব্য আক্রান্ত রনজয় বাবু ইচ্ছে প্রণোদিত ভাবে মন্ত্রী ও তাঁর ভাই কে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি সাংবাদিক দের সামনে জানিয়েছেন তাঁর উপর আক্রমণ কারীরা হিমাংশু দাস এর নাম নিয়েই নাকি এই আক্রমণ চালায়।
এই ঘটনা সম্পূর্ণ ভাবে মিথ্যে এবং মন্ত্রী সুধাংশু দাস এর বড় ভাই হিমাংশু দাস কে কালিমালিপ্ত করার চক্রান্ত মাত্র। তাই এই অপ প্রচারের বিরুদ্ধে সরব হলেন ঊনকোটি জেলার ঠিকাদারেরা। তাদের অভিযোগ রনজয় দেববর্মা ঠিকেদার দের কাছ থেকে প্রতি কাজ বাবদ ২৫% করে কমিশন ধার্য করেন। হিমাংশু দাস সেই কমিশন দিতে না চাওয়াতেই তাঁর বিরুদ্ধে অপ প্রচার করা হচ্ছে।
তাছাড়াও ঠিকাদার সংঘের পক্ষ থেকে এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার রনজয় দেববর্মাকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে যে চলতি মাসের আট অক্টোবর এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার রনজয় দেববর্মাকে শারিরীক ভাবে হেনস্তা করার সময় ঠিকাদার হিমাংশু দাসের উপস্থিতি কিংবা সংযোগ যদি আগামী আটচল্লিশ ঘন্টার মধ্যে প্রমান না করতে পারেন তাহলে ঊনকোটি জেলার ঠিকাদার সংঘ রনজয় দেববর্মার বিরুদ্ধে আইনের দারস্থ হবেন।
বলা বাহুল্য , সম্প্রতি এই নিয়ে বেশ জল ঘোলা হয়ে চলেছে রাজ্য রাজনীতি তে। আরও একবার মন্ত্রীর ভাই কিভাবে বিপিএল কার্ড ধারী থেকে রাজ্যের সর্বোচ্চ কর দাতা হয়ে উঠেছেন সেই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক এই নিয়ে মন্ত্রী সুধাংশু দাস একজন সংবাদ কর্মীর সাথে ইনফরমালি এই নিয়ে বলতে গিয়ে বেফাঁস ঠিকেদার দের কাছ থেকে কমিশন গ্রহনের বিষয়টি স্বীকার করে নেন।
এর পর পরই এই ঠিকেদার দের এহেন সাংবাদিক বৈঠক ডেকে রনজয় দেববর্মার আক্রমণের ঘটনা নিয়ে মন্ত্রী ও তাঁর ভাই এর পক্ষে দাঁড়িয়ে এই যুক্তি স্থাপন কেমন যেন ঘোলা জলে মাছ ধরার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি ও সুবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ সব তাই বোঝেন। আর এই সব কিছুতে মন্ত্রী মহোদয় যে এক প্রকার বেকায়দায় ফেসে গেছেন সেটাও বলাই যায়। প্রশ্ন উঠছে এতো কিছুর পর মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত চালু হবে কিনা, নাকি মন্ত্রিত্ব থেকেই হাত ধুইয়ে বসতে হবে এবার সুধাংশু দাস কে।



