খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Saturday, 30 August 2025 - 12:21 PM
শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫ - ১২:২১ অপরাহ্ণ

Smart Meter News : স্মার্ট মিটার না লাগানোয় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হল একাধিক বাড়ি ঘরে

Smart Meter News
1 minute read

Smart Meter News : স্মার্ট মিটার বসানো নিয়ে মধুপুরের মুন্ডা পাড়া এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও ভোগান্তি। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা জোরপূর্বক গ্রাহকদের স্মার্ট মিটার বসাতে চাপ সৃষ্টি করছেন। অনেক বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ পর্যন্ত কেটে দেওয়া হয়েছে, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ কোন ধরনের মিটার ব্যবহার করবেন, তা বেছে নেওয়ার অধিকার গ্রাহকদেরই রয়েছে। বিদ্যুৎ মন্ত্রীও প্রকাশ্যে বলেছেন, স্মার্ট মিটার বসানো বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা এলাকায় গিয়ে স্মার্ট মিটার বসানোর কথা বললে স্থানীয়রা আপত্তি তোলেন। তখন তাদের উপর চড়াও হন কর্মীরা এবং কয়েকটি বাড়ির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে পানীয় জলের ক্ষেত্রে। এলাকাজুড়ে যেসব পরিবার টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ রিচার্জ করে পানীয় জলের মোটর চালান, সেই সংযোগও কেটে দেওয়া হয়। ফলে গোটা পাড়া পানীয় জলের তীব্র সংকটে পড়েছে। ক্ষুব্ধ জনগণ জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় রান্না থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের কাজকর্ম প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয়রা সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়ে দাবি করেছেন, জোর করে স্মার্ট মিটার চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। সাধারণ গ্রাহকেরা নিজের সুবিধা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন। বিদ্যুৎ দপ্তরের পক্ষ থেকে যেভাবে চাপ সৃষ্টি করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে, তা অনৈতিক এবং জনস্বার্থবিরোধী বলেই অভিযোগ তুলেছেন তারা।

রাজ্যে বিদ্যুৎ নিয়ে গ্রাহকদের এই অসহায় পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই চরম নিন্দার মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো প্রযুক্তি গ্রাহকদের উপকারে এলে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তা গ্রহণ করবেন। কিন্তু জোর-জবরদস্তির মাধ্যমে প্রযুক্তি চাপিয়ে দেওয়া হলে জনঅসন্তোষ বাড়বেই।

মুন্ডা পাড়ার বাসিন্দারা দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি সমস্যার স্থায়ী সমাধান চেয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

মুন্ডা পাড়ায় স্মার্ট মিটার ইস্যুতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা মূলত প্রশাসনিক জোরজবরদস্তি আর গ্রাহকের অধিকার খর্ব করার ফল। বিদ্যুৎ দপ্তর যদি স্বচ্ছতার সঙ্গে গ্রাহকদের বোঝাতে পারত, তবে এমন অচলাবস্থা তৈরি হতো না। পানীয় জল থেকে শুরু করে নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় কাজে বিদ্যুৎ অপরিহার্য—এমন অবস্থায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।


স্মার্ট মিটার নিয়ে বিতর্কের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গ্রাহকের স্বাধীনতা। প্রযুক্তি চাপিয়ে না দিয়ে সুবিধা ও অসুবিধা খোলাখুলি তুলে ধরা জরুরি। মানুষ যখন বুঝবে এটি তাদের উপকারে আসছে, তখনই স্বেচ্ছায় গ্রহণ করবে।

অতএব, সরকারের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনা।

For All Latest Updates

ভিডিও