খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Saturday, 30 August 2025 - 12:21 PM
শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫ - ১২:২১ অপরাহ্ণ

Bishalgarh CPIM News : বিশালগড়ে জঙ্গলের রাজত্ব চলছে বলে অভিযোগ সিপিআইএমের

Bishalgarh CPIM News
1 minute read

Bishalgarh CPIM News : ত্রিপুরার বিশালগড় মহকুমায় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক অঙ্গন। সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে ঘটে চলা হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির জন্য শাসক দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধী সিপিআইএম। তাদের অভিযোগ— বিশালগড়ে কার্যত জঙ্গলের রাজত্ব চলছে, মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, অথচ প্রশাসন নির্বিকার।

গত কয়েক বছরে বিশালগড়ে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক নানা ইস্যুকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব বাড়তে দেখা যাচ্ছে। মাঝখানে কিছুটা শান্ত থাকলেও গত দুই থেকে তিন বছরে সংঘর্ষ, হামলা, চুরি, ছিনতাই এবং ডাকাতির মতো ঘটনাগুলি নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার বিশালগড়ে একাধিক স্থানে ঘটে যাওয়া বিচ্ছিন্ন ঘটনায় আরও ভীত হয়ে পড়েছে মানুষ। স্থানীয়দের দাবি— বাড়িঘরে হামলা, রাস্তাঘাটে মারধর, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর এমনকি প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনা এখন আর বিরল নয়। ফলে পরিবার নিয়ে সাধারণ মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারছেন না।

এই পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার সকালে বিশালগড়ের অফিসটিলা সিপিআইএম কার্যালয়ে এক সাংবাদিক বৈঠক করেন পার্টির নেতৃত্বরা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম মহকুমা কমিটির সম্পাদক পার্থ প্রতিম মজুমদার, জেলা কমিটির সদস্য প্রদেশ রায়সহ অন্যান্যরা। নেতৃত্বরা অভিযোগ করেন, বিশালগড়ে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে, কার্যত চলছে “জঙ্গলের রাজত্ব”।

তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, মানুষ ভয়ে দিন কাটাচ্ছে, আর প্রশাসন পুরোপুরি ব্যর্থ। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিপিআইএম জানায়, হামলা, ভাঙচুর, লুটপাটের মতো গুরুতর ঘটনাতেও পুলিশের কোনো হস্তক্ষেপ দেখা যায় না। সম্প্রতি থানার ওসি বদল হলেও বাস্তবে মানুষের নিরাপত্তা বাড়েনি।

সিপিআইএম নেতৃত্বরা সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরেন। কয়েকদিন আগে বামেদের একটি মিছিলে প্রকাশ্য দিবালোকে শাসক দলের কিছু যুবক আচমকা হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। শুধু তাই নয়, এক বাম কর্মীর বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয় এবং লুটপাট চালানো হয়।

এছাড়াও, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ছাড়াও অরাজনৈতিক অপরাধও বাড়ছে বলে দাবি করেন বিরোধীরা। দিনেদুপুরে ছিনতাই, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে চুরি, এমনকি মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

সিপিআইএম নেতৃত্বরা অভিযোগ করেন, শাসক দলের মদতেই এই সমস্ত অপরাধমূলক কার্যকলাপ ঘটছে। তাদের মতে, প্রশাসনকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করে ব্যবহার করা হচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষ বিচার পাচ্ছেন না। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলা হয়— “বিশালগড়ে অপরাধের ঘটনার পরও যদি অভিযুক্তরা অবাধে ঘুরে বেড়ায়, তাহলে তা প্রমাণ করে সরকার চাইছে না মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক।”

সাধারণ মানুষও ক্রমশ ভীত হয়ে পড়ছেন। এলাকার অনেকেই মুখ খুলতে চাইছেন না, ভয় পাচ্ছেন প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কায়। তবে স্থানীয়দের বক্তব্য, এখনকার পরিস্থিতি অতীতের অশান্ত সময়ের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। পরিবার নিয়ে নিরাপদে বসবাসের অধিকারই যেন হুমকির মুখে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যদি প্রশাসন এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে বিশালগড়ে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। অপরাধীরা শাস্তির ভয় না পেলে তা আরও সাহসী হয়ে উঠবে। এতে শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, সাধারণ মানুষও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

প্রশাসনের তরফে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। নতুন ওসির যোগদানের পর আশা করা হচ্ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে, কিন্তু মানুষের মধ্যে আস্থা ফেরাতে এখনো অনেকটা পথ বাকি।

বিশালগড়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। রাজনীতি, অপরাধ ও প্রশাসনিক দুর্বলতার মধ্যে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিরোধী সিপিআইএম যেমন অভিযোগ তুলছে “জঙ্গলের রাজত্ব” চলছে, তেমনি স্থানীয় মানুষও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রশ্ন উঠছে— প্রশাসন কি সত্যিই নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেবে, নাকি রাজনৈতিক প্রভাবেই চলবে আইনশৃঙ্খলার খেলা?


যতদিন না দোষীদের চিহ্নিত করে কড়া শাস্তি দেওয়া হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে, ততদিন বিশালগড়বাসীর মনে ভয় ও ক্ষোভ থেকে যাবে। সময়ের দাবি— আইনের শাসন ফিরিয়ে আনা, যাতে মানুষ অন্তত নিশ্চিন্তে বাঁচতে পারেন।

For All Latest Updates

ভিডিও