Tripura STGT News : ট্রাইপলিটিচার্স রিক্রুটমেন্ট বোর্ড (টিআরবিটি)-র দপ্তরের সামনে আজ সকাল থেকেই জমায়েত হয়েছেন শতাধিক চাকরিপ্রার্থী। হাতে প্ল্যাকার্ড, কণ্ঠে প্রতিবাদের স্লোগান—তাঁদের একটাই দাবি, অবিলম্বে প্রকাশ করা হোক ২০২২ সালের এসটিজিটি পরীক্ষার ফলাফল এবং দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হোক।
চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর আগে অর্থাৎ ২০২২ সালে টিআরবিটির অধীনে এসটিজিটি (স্পেশাল ট্রেন্ড গ্র্যাজুয়েট টিচার) পদে নিয়োগের জন্য পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। কয়েক হাজার প্রার্থী সেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু সময়ের চাকা ঘুরতে ঘুরতে তিন বছর পার হলেও আজও প্রকাশিত হয়নি ফলাফল। ফলস্বরূপ, ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত বলে মনে করছেন পরীক্ষার্থীরা।
এক চাকরিপ্রার্থী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন—
“আমরা তিন বছর ধরে শুধু আশ্বাস শুনে যাচ্ছি। সরকার নানা সময়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্তু ফলাফল কবে বেরোবে তার কোনও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ আজও জানানো হয়নি। আমাদের অনেকেই বয়সের সীমায় পৌঁছে যাচ্ছি। যদি আর দেরি হয়, তাহলে এই নিয়োগে বসার যোগ্যতাই হারিয়ে ফেলব।”
আজকের বিক্ষোভ ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। সকাল থেকেই আগরতলার টিআরবিটি অফিসের সামনে ভিড় জমান প্রার্থীরা। হাতে প্ল্যাকার্ডে লেখা—
“অবিলম্বে ফলাফল প্রকাশ করুন”
“আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আর খেলবেন না”
“শিক্ষক নিয়োগে বিলম্ব বন্ধ করুন”
অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁরা বহুবার মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু এতদিনেও কোনও সদুত্তর মেলেনি। তাই বাধ্য হয়েই রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
তারা জানান, সরকারি চাকরির সর্বোচ্চ বয়সসীমা তাঁদের মাথার উপর তলোয়ারের মতো ঝুলছে। আজ না হলে কাল, বয়সসীমা অতিক্রম করলে তাঁদের জীবনে আর চাকরির সুযোগ ফিরবে না। সেই আশঙ্কাই তাঁদের আন্দোলনকে আরও তীব্র করছে।
এক বিক্ষোভকারী তরুণীর কথায়—
“আমাদের শুধু সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। চাকরি না পেলে পরিবারে ফিরব কীভাবে? সমাজ আমাদের দিকে আঙুল তুলবে। তাই আজ না হলে কাল, সরকারকে ফলাফল প্রকাশ করতেই হবে।”
চাকরিপ্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন, টিআরবিটি শুধু সময়ক্ষেপণ করছে। ফলাফল প্রকাশের দিনক্ষণ বা নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার করে কিছু জানানো হয়নি। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষা তাঁদের মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁরা ইতিমধ্যেই অসংখ্যবার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু সরকার ও প্রশাসন কেবল নীরব থেকেছে। তাঁদের অভিযোগ, এটি শুধু প্রশাসনিক উদাসীনতা নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নভঙ্গ।
আজকের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার যদি শীঘ্রই কোনও পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। রাস্তায় নেমে লাগাতার বিক্ষোভ, মিছিল, এমনকি অনশন—সব রকম কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
শিক্ষক নিয়োগে এত বিলম্ব কেন? প্রার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন, যেহেতু পরীক্ষার আয়োজন হয়েছিল, তাহলে ফলাফল প্রকাশে এত সময় লাগছে কেন? এতে শুধু প্রার্থীরাই নয়, শিক্ষাক্ষেত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কারণ, শূন্যপদ পূরণ না হলে বিদ্যালয়ে পাঠদানের মান নষ্ট হচ্ছে।
প্রতিবাদকারীরা করজোড়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেন অবিলম্বে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। তাঁদের বক্তব্য—
“আমরা চাই না আর কেউ আমাদের বিভ্রান্ত করুক। চাই শুধু ন্যায্য অধিকার। যে পরীক্ষা আমরা দিয়েছি, তার ফলাফল পেতে দেরি হওয়ার কোনও যৌক্তিক কারণ নেই।”
আজকের এই বিক্ষোভ আরও একবার স্পষ্ট করে দিল, রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের মনে ক্ষোভ কতটা তীব্র। প্রতিটি দিন তাঁদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে কেবল ভেঙে দিচ্ছে। ফলাফল প্রকাশের দাবিতে এই আন্দোলন হয়তো আগামী দিনে আরও বিস্তৃত আকার নেবে।
সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে শুধু চাকরিপ্রার্থীদের নয়, শিক্ষাক্ষেত্র এবং রাজ্যের ভবিষ্যৎও সংকটে পড়বে—এমনটাই মনে করছেন শিক্ষামহল। এখন দেখার বিষয়, সরকারের তরফ থেকে কবে এবং কীভাবে প্রতিক্রিয়া আসে।