Online Gaming News : গেমিং এর আশক্তি কেড়ে নিলো তরতাজা কিশোরের প্রাণ। সভ্যতার যতটা চরম শিখরে পৌঁছুচ্ছে গোটা বিশ্ব ততই যেন একদিকে মানব কুল্যের নিধন যজ্ঞ শুরু হয়ে গেছে। টেকনোলজির দৌরাত্ম্যের সাথে টেক্কা দিয়ে উঠতে আজো শেখেনি মানুষ। তাই হয়তো আজ এহেন পরিণতি।
মোবাইল ফোনে গেমিং এর আশক্তি। এতটা ভয়ঙ্কর এর প্রভাব যা হয়তো ঘুণাক্ষরেও আন্দাজ নেই অভিভাবক মহলের। ছেলে মেয়েদের হাতে অল্প বয়স থেকেই মোবাইল ফোন খানা ধরিয়ে দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব শেষ মনে করেন যে অভিভাবকেরা, তারা জানেন না এই মুঠো ফোন খানা কতটা বিপদজনক। এবার এমনই এক মোবাইল ফোনের দৌলতে আরও এক তরতাজা প্রাণ অকালে ঝড়ে পড়লো।
মাত্র অষ্টম শ্রেণিতে পড়তো সুকান্ত চাকমা নামের এক কিশোর। বাড়ি ত্রিপুরার জতন বাড়ি এলাকায়। অল্প বয়স থেকেই মোবাইল ফোনে অনলাইন গেমিং এর নেশায় আশক্ত হয়ে পড়েছিল সুকান্ত। নিত্যদিন অনেকটা সময় তার মোবাইলে অতিবাহিত হতো। বাবা মা অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের লোক।
রবিবার সকালে ছেলে সুকান্ত গেইম খেলতে গিয়ে দেখতে পায় মোবাইল এর রিচার্জ শেষ হয়ে গেছে। তখন সে তার মায়ের কাছে মোবাইল রিচার্জ করাবার কথা বলে। মা বলেন, কাজের টাকা আসলে করিয়ে দেবেন। কিন্তু তাতে আর তড় সইলো না সুকান্তের। মায়ের সাথে অভিমান করে বাড়ির পাশের একটি গাছে গিয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হল সুকান্ত।
কিছুক্ষণ বাদে এলাকা বাসী তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে তড়িঘড়ি ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নতুনবাজার গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসে। কিন্তু ততক্ষণে সুকান্তের প্রাণ পাখি বহুদুর উড়ে গেছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন সুকান্ত কে এবং তাকে মর্গে পাঠানো হয়। এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সুকান্তের বাবা মায়ের আর্ত চিৎকারে স্তব্ধ হয়ে গেছে আকাশ বাতাস। এক নিষ্পাপ শিশুর জীবনের এহেন চরম পরিণতি দেখে এক প্রকার আতঙ্কে রয়েছেন অন্যান্য অভিভাবক মহলও। শিশুদের হাতে মোবাইল দেওয়া এবং অনলাইন গেমিং এর আশক্তি যে কতটা ভয়ানক তার আরও এক জলজ্যান্ত উদাহরণ পরে রইলো জতনবাড়ির বুকে।