IPFT Agartala Conference : তিপ্রা ল্যান্ডের দাবী নিয়ে আবারো ময়দানে হাড়িয়ে যাওয়া আইপিএফটি দল। পাহাড়ের যুবকদের বিভ্রান্ত করে এডিসি নির্বাচনে জেতার জন্য কায়দা করছে আইপিএফটি। যা বাস্তবে কখনোই সম্ভব নয়। এটা তাদের নেতৃত্বরা ভালো করেই জানেন। সরকারে থেকে সরকারের কাছেই তিপ্রা ল্যান্ডের জন্যে দাবী জানাচ্ছে আইপিএফটি। এ কীরকম নীতি তাদের ?
আর কিছুদিন বাদেই হতে পারে এডিসি নির্বাচন। তার পর আসবে ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচন। শুরু হবে নির্বাচনে হাড় জিতের খেলা। ২০১৮ এর নির্বাচনের আগে রাজ্যের পাহাড়ে একটি শ্লোগান মুখরিত ছিল, সেটি ছিল “তিপ্রা ল্যান্ড” । সেই তিপ্রা ল্যান্ড কে হাতিয়ার করে ১৮ র নির্বাচনে ভালো ফলাফল করেছিল আইপিএফটি নামক দলটি। রাজ্যে বিজেপি ও আইপিএফটি মিলিত সরকার পরিচালিত হবার পর পাহাড়ে ধীরে ধীরে শক্তি হারাতে থাকে আইপিএফটি। তার মূল কারণ হল, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি।
যে শ্লোগান কে সামনে রেখে তারা ক্ষমতায় এসেছিল সেই শ্লোগান কে বাস্তবায়িত করতে ব্যর্থ হয়েছিল আইপিএফতির নেতৃত্বরা। এবং সেই সঙ্গে পাহাড়ের অধিকাংশ জনজাতিরাই বুঝতে পারে যে এই দাবী আদৌ ত্রিপুরা রাজ্যে সম্ভব হবে না। তখনই রাজ্যে আরেকটি দলের উদ্ভব হয় প্রদ্যুত কিশোরের হাত ধরে, যার নাম তিপ্রা মথা। তারা এসে আবার একটি নতুন ধনী দিল, “ গ্রেটার তিপ্রা ল্যান্ড”। আবারো পাহাড়ের সহজ সরল তিপ্রাসারা বিভ্রান্ত হল এবং গ্রেটার তিপ্রা ল্যান্ড এর আশায় ঝাপিয়ে পড়লো সেই দলে। তখন পাহাড় থেকে ভেনিশ হয়ে গেল আইপিএফটি নামক দল টি। ২৩ এর নির্বাচনে আইপিএফটি কেবলমাত্র ১ টি আসনে জয়লাভ করে। এবং বাকি সব কটি আসনেই হার স্বীকার করতে হয়। সেই তাদের হাড়িয়ে যাওয়া জমি পুনরুদ্ধারের জন্যে পুরনো ডায়লগ কে কাজে লাগাতে মাঠে নেমে পড়েছে আইপিএফটি। সেই আবারো একই শ্লোগান তিপ্রা ল্যান্ড।
প্রসঙ্গত ,
শনিবার আগরতলা মরা চৌমুহনী তে আইপিএফটির এক সুবিশাল জনসমাবেস এর আয়োজন ছিল। আর তাতেই গর্জে উঠলো আইপিএফতির কর্মীরা। কণ্ঠে শোনা গেল পুরোনো দাবী। সেই তিপ্রা ল্যান্ড এর দাবী। যাকে হাতিয়ার করে একের পর এক নির্বাচনে ভোট বৈতরণী পাড় করে যাচ্ছেন এরা। এর মাঝে তিপ্রা মথা ও গ্রেটার তিপ্রা ল্যান্ড এর দাবী কে হাতিয়ার করে ত্রিপুরার পাহাড়ে শক্ত ঘাটি তৈরি করতে সফল হয়ে যায়। এবার আইপিএফটি পুনরায় পাহাড়ের মানুষের মনে তিপ্রা ল্যান্ড এর লোভ ফের জাগিয়ে তুলতে জারপর নাই চেষ্টা চালাচ্ছে। আর তাতে এবার মদত জোগাতে দেখা যাচ্ছে ন্যাশনাল ফেডারেশন ফর নিউ স্টেট কে। জাতীয় স্তরের এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এস সানিয়াল , যিনি খোদ একজন বাঙ্গালী – উনি এদিনের সন্মেলনে শামিল হয়ে আইপিএফটির আলাদা রাজ্যের দাবিকে ন্যায্য দাবী বলে আখ্যা দিয়েছেন।
উনার বক্তব্য , ত্রিপুরার সরকার পাহাড়ের আদিবাসী দের জন্যে কিছুই ভাবে না। পাহাড়ের মানুষ অবহেলিত। তাই তাদের সার্বিক উন্নয়নের জন্যে নাকি এই দাবী সম্পূর্ণ ভাবে ন্যায্য এবং এই দাবী আদায়ের জন্যে যতদূর যাওয়া সম্ভব ততদুর এই আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারেন আইপিএফটি। এই লড়াইয়ে তাদের পাশে থাকার ও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
ভারতীয় সংবিধানের ২ ও ৩ নং অনুচ্ছেদ এর উদাহরণ টেনে আলাদা রাজ্যের দাবী তে সরব হয়েছে আইপিএফটি দল।
তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা , যে আইপিএফটি আর বোধয় সহজ সরল তিপ্রাসাদের বোকা বানাতে পারবে না। সামনের নির্বাচনে ত্রিপুরা রাজনীতি থেকে পুরোপুরি ভাবে হাড়িয়ে যাবে আইপিএফটি নামক সেই দল টি।