Mouli Bhushan Bhattacharjee : বিশালগড়ের শিক্ষাক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা ছিলেন মৌলি ভূষণ ভট্টাচার্য। শুধু শিক্ষক নন, তিনি ছিলেন একজন মানবতাবাদী চিন্তাবিদ ও সমাজগঠনে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি। সম্প্রতি তাঁর পরলোক গমনে শিক্ষাজগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি অসংখ্য ছাত্রছাত্রীকে শুধুমাত্র শিক্ষায় নয়, জীবনের পথ চলার দিশা দেখিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা মানে শুধুই পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ থাকা নয়—বরং মানুষ গড়ার একটি দায়িত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। এই মনোভাব থেকেই তিনি সবসময় শিক্ষার প্রসারে কাজ করে গেছেন নিঃস্বার্থভাবে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, বিশালগড়ের “বিবেকানন্দ শিশু নিকেতন” বিদ্যালয়ের সূচনাকালে প্রতিষ্ঠানটির জন্য যখন উপযুক্ত স্থান সংকট দেখা দিয়েছিল, সেই সময় মৌলি ভূষণ ভট্টাচার্য তাঁর নিজের বাড়ির একটি অংশ শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। এই উদারতা নিঃসন্দেহে বিশালগড়ের শিক্ষার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এত বড় অবদানের পরেও বিবেকানন্দ শিশু নিকেতন কর্তৃপক্ষ কোনোদিন তাঁর এই ত্যাগ ও অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান করেনি।
তবে নীরবে এই শিক্ষাগুরুর অবদানকে সম্মান জানিয়েছেন বিশালগড়েরই আরেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান “আনন্দমার্গ স্কুল”-এর চেয়ারম্যান ও সমাজসেবী ননী গোপাল দেবনাথ। ২০২২ সালের শিক্ষক দিবসে তাঁর উদ্যোগে মৌলি ভূষণ বাবুকে “ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর স্মৃতি সম্মাননা” প্রদান করা হয়। পরবর্তীকালে সরকারিভাবেও তিনি একই সম্মাননায় ভূষিত হন।
এই সম্মাননা শুধু একজন শিক্ষককে কৃতজ্ঞতা জানানোর দৃষ্টান্ত নয়, বরং শিক্ষা ও আদর্শের প্রতি সমাজের দায়িত্ববোধেরও প্রতিফলন।
আজ তিনি নেই, তবে তাঁর আদর্শ, অবদান এবং ছাত্রছাত্রীদের জীবনে রেখে যাওয়া গভীর ছাপ চিরকাল বিদ্যমান থাকবে। মৌলি ভূষণ ভট্টাচার্য-র বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় রইল আমাদের অন্তরের গভীর শ্রদ্ধা।



