খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Friday, 6 November 2026 - 10:39 PM
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ - ১০:৩৯ অপরাহ্ণ

IG Tripura Police : আশাবাড়িতে বিএসএফের উপর হামলার ঘটনায় কড়া হুঁশিয়ারি রাজ্য পুলিশের আইজি-র

IG Tripura Police
1 minute read

IG Tripura Police : কলমচৌড়া থানার অন্তর্গত আশাবাড়ি সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফের জওয়ানদের উপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন রাজ্য পুলিশের আইজি (আইনশৃঙ্খলা) মনচাক ইপ্পার। এই ঘটনায় জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় পাচারকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন আইজি।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন আগে আশাবাড়ি সীমান্ত এলাকায় পাচার বাণিজ্য রুখতে পাচারকারীদের পিছু ধাওয়া করেছিলেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) জওয়ানরা। অভিযোগ, সেই সময় পাচারকারীরা স্থানীয় কিছু বাসিন্দাকে সঙ্গে নিয়ে বিএসএফের জওয়ানদের উপর সংঘবদ্ধ হামলা চালায়। জওয়ানদের রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর, গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি তাঁদের সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও সামনে আসে। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য প্রশাসন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে।

ঘটনাটিকে রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের তরফে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে অভিহিত করা হয়েছে। দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজেদের পারিবারিক আনন্দ-উৎসব বিসর্জন দিয়ে সীমান্তে দিনরাত কর্তব্য পালন করেন বিএসএফের জওয়ানরা। তাঁদের উপর এ ধরনের বর্বরোচিত হামলার ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীও সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

এদিকে, এই ঘটনায় কলমচৌড়া থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করে অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। প্রথম পর্যায়ে সাতজন পুরুষ ও তিনজন মহিলা-সহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁদের আদালতে পেশ করা হলে তিন মহিলাকে জেল হেফাজতে এবং সাতজন পুরুষকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়। এরপর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ফের অভিযান চালিয়ে আরও আটজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার তাঁদের আদালতে পেশ করা হয়। এই গ্রেফতারের খবর পেয়ে কলমচৌড়া থানায় ছুটে যান পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা। অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা তাঁদের নির্দোষ দাবি করে থানার সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

অন্যদিকে, সিপাহীজলা জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ওই এলাকায় প্রশাসনিক আধিকারিকদের পাঠিয়ে বাড়ি বাড়ি জমি ও বসতবাড়ির বৈধ নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অনেক পরিবারই তাঁদের জমির বৈধ নথিপত্র দেখাতে পারেননি। যাঁদের বাড়িঘরের বৈধ কাগজপত্র নেই, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজনে উচ্ছেদের পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য পুলিশের আইজি (আইনশৃঙ্খলা) মনচাক ইপ্পার বলেন, বিএসএফের উপর এই ধরনের হামলার ঘটনা রাজ্যে বিরল এবং অত্যন্ত নিন্দনীয়। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জড়িত অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে আরও যারা জড়িত রয়েছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। এই ঘটনায় কাউকেই কোনও ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, ওই এলাকার পাচারকারীরা দীর্ঘদিন ধরে পাচার বাণিজ্য চালিয়ে এখন কার্যত সন্ত্রাসের রূপ ধারণ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে। আগামী দিনে ওইসব সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে পাচার বাণিজ্য সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএসএফের উপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার পাচারকারীদেরও তাঁদের কর্মকাণ্ডের জবাব দিতে হবে।

একই সঙ্গে এলাকার সাধারণ মানুষের প্রতি শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন আইজি। তিনি বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে, তার বিচার আইনের পথেই হবে। তাই কেউ যেন অতিউৎসাহী হয়ে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত না করেন। ঘটনার দিন থেকে এখনও পর্যন্ত ওই এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছে। রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকেও গোটা পরিস্থিতির উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রকাশের আগে অভিযুক্তের সংখ্যা, আদালতের হেফাজত সংক্রান্ত তথ্য, জমির নথি যাচাই ও উচ্ছেদ প্রসঙ্গে প্রশাসনের বক্তব্য এবং আইজি-র নাম ও পদবি একবার সরকারি সূত্রে মিলিয়ে নেবেন। অভিযোগ ও প্রশাসনিক বক্তব্যকে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে না দেখানোর জন্য ভাষাতেও সতর্কতা রাখা হয়েছে।

For All Latest Updates

খাস খবর