CPIM Press Meet : আসন্ন আগরতলা পুরনিগম-সহ রাজ্যের অন্যান্য পুর সংস্থার নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিরা। নির্বাচনে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন, বিরোধী প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটদানের পরিবেশ তৈরির মতো একাধিক বিষয় আলোচনায় উঠে আসে। বৈঠক শেষে বাম প্রতিনিধিদের দাবি, তাঁদের বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।
বামদলগুলির বক্তব্য, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই নিরাপত্তার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার উদ্দেশ্য হল প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত করা। তাঁদের দাবি, মনোনয়ন জমা দেওয়া থেকে শুরু করে নির্বাচনী প্রচার এবং ভোটগ্রহণ—প্রতিটি পর্যায়ে বিরোধী প্রার্থী ও সমর্থকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিনিধিদের দাবি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাবকে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি নাকচ করেননি। বরং অবাধ নির্বাচন পরিচালনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি সহায়ক হতে পারে বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন। তবে বাহিনী মোতায়েনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
বামদলগুলি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি নির্বাচনের অন্তত সাত দিন আগে থেকে স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা ও টহলদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। এডিসি ও ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তাদের বক্তব্য, পরিকল্পিত নিরাপত্তাব্যবস্থা ভোটার ও নির্বাচনী কর্মীদের আস্থা বাড়াতে পারে।
এদিনের আলোচনায় শুধু নির্বাচন নয়, জাতীয় সড়ক নির্মাণ ও সম্প্রসারণের ফলে রানিরবাজার-সহ বিভিন্ন বাজারের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বাম প্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি, বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে বিকল্প পরিকল্পনা এবং বাইপাস নির্মাণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হোক।
বাম প্রতিনিধিদের বক্তব্য, বাজার সংক্রান্ত বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে নির্বাচন ও উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি। এখন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।






