Agartala Auto News : আগরতলা জিবি বাজার এলাকায় বুধবার সকালে এক ব্যাটারিচালিত রিকশাকে কেন্দ্র করে তুমুল চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় অটোচালকদের তৎপরতায় ধরা পড়ে এক অভিনব ও মারাত্মক জালিয়াতির ঘটনা। দেখা যায়, একটিমাত্র অটোতেই ব্যবহৃত হচ্ছে তিনটি পৃথক নম্বর প্লেট। চালক তাঁর সুবিধামতো এলাকাভেদে—কখনও বিশালগড়, আবার কখনও আগরতলায়—যাত্রী বহনের সময় এই ভিন্ন নম্বর প্লেটগুলো বদলে নিতেন। চালকদের কৌতূহল ও তৎপরতায় বিষয়টি সংবাদ মাধ্যম এবং প্রশাসনের নজরে আসে।
দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ একটি পরিবহনের আড়ালে চলা এই কাণ্ডটি কেবল অনৈতিক নয়, বরং অত্যন্ত বিপজ্জনক ও অপরাধমূলক। নৈতিকতার দিক থেকে বিচার করলে, এটি সরাসরি সাধারণ যাত্রীদের বিশ্বাসভঙ্গ এবং সহ-পরিবহন শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা। বিভিন্ন রুটের নির্দিষ্ট নিয়ম, অনুমতিপত্র (পারমিট) এবং কর এড়িয়ে যাওয়ার জন্যই এমন অসাধু পন্থা বেছে নেওয়া হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে একটি সুপরিকল্পিত দু’নম্বরি ও রাজস্ব ফাঁকির ছক। একটি নম্বর প্লেটের আড়ালে যদি কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়, তবে প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অর্থাৎ, চুরি, ছিনতাই বা কোনো মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর অপরাধী খুব সহজেই অন্য নম্বর প্লেট লাগিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে চম্পট দিতে পারে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের কর্মকাণ্ড অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। মোটর যান আইন অনুযায়ী, প্রতিটি যানবাহনের একটি নির্দিষ্ট নিবন্ধন নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক, যা গাড়ির চ্যাসিস ও ইঞ্জিন নম্বরের সাথে যুক্ত থাকে। ভুয়ো বা একাধিক নম্বর প্লেট ব্যবহার করা ভারতীয় দণ্ডসংহিতা (বর্তমানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা) অনুযায়ী জালিয়াতি, প্রতারণা এবং বেআইনিভাবে ভুয়ো পরিচয় ধারণ করার সামিল। পরিবহন দপ্তরের পারমিট ছাড়া এক এলাকার গাড়ি অন্য এলাকায় চালানো এবং ভুয়ো নম্বর ব্যবহার করার ফলে চালকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারা এবং মোটর যান আইনের আওতায় জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হতে পারে। এতে মোটা অঙ্কের জরিমানার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট যানের নিবন্ধন চিরতরে বাতিল হওয়ার স্পষ্ট বিধান রয়েছে।
জিবি বাজারের অটো চালকদের এই সচেতনতা স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থায় এক বড় ধরণের প্রতিবাদের সলতে জ্বালিয়েছে। আইন অমান্যকারী এই অসাধু চালকের বিরুদ্ধে প্রশাসন এখন কী শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সাধারণ নাগরিক ও সচেতন চালক সমাজ। এ ধরনের অপরাধ দমন করতে ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবহন দপ্তরের অভিযান আরও কঠোর হওয়া জরুরি।






