খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Wednesday, 12 August 2026 - 05:07 PM
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬ - ০৫:০৭ অপরাহ্ণ

ছেঁড়া-মলিন নোট বদলে বাজারে আসছে ১০ ও ২০ টাকার পলিমার নোট

ছেঁড়া-মলিন নোট বদলে বাজারে আসছে ১০ ও ২০ টাকার পলিমার নোট
1 minute read

ছেঁড়া-মলিন নোট বদলে বাজারে আসছে ১০ ও ২০ টাকার পলিমার নোট : দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারে ছিঁড়ে যাওয়া, মলিন হয়ে যাওয়া কিংবা জীর্ণ ১০ ও ২০ টাকার নোটের সমস্যা এবার অনেকটাই কমতে পারে। দেশের মুদ্রা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে কেন্দ্র। পরীক্ষামূলকভাবে বাজারে আনা হচ্ছে ১০ টাকা ও ২০ টাকার পলিমার বা প্লাস্টিক নোট। মঙ্গলবার সংসদে এই উদ্যোগের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে ১০ টাকা ও ২০ টাকা মূল্যমানের পলিমার ব্যাঙ্কনোট চালুর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। সেই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে কেন্দ্র। প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে প্রতিটি মূল্যমানের ১০০ কোটি করে পলিমার নোট বাজারে ছাড়া হবে।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ জানিয়েছেন, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রস্তাব সরকার অনুমোদন করেছে। তবে নতুন পলিমার নোট এলেও বর্তমানে প্রচলিত কাগজের নোট একেবারে তুলে নেওয়া হচ্ছে না। অর্থাৎ, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে পলিমার নোটের পাশাপাশি আগের কাগজের নোটও বৈধভাবেই বাজারে চলবে।

কেন পলিমার নোট?

নতুন ধরনের নোট চালুর পিছনে মূলত দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, পলিমার নোট সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় অনেক বেশি টেকসই। বারবার হাতবদল হলেও সহজে ছিঁড়ে বা নষ্ট হয় না। ফলে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ব্যবহার করা সম্ভব।
সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, কাগজের নোটের তুলনায় পলিমার নোট প্রায় চার গুণ বেশি টেকসই হতে পারে। বিশেষ করে ১০ ও ২০ টাকার নোট সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ফলে এই মূল্যমানের নোট দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি। পলিমার নোট চালু হলে সেই সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কারণে নোট ছাপানোর সামগ্রিক খরচও কমতে পারে। একটি কাগজের নোট দ্রুত ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়লে সেটি বদলে নতুন নোট বাজারে আনতে হয়। পলিমার নোট দীর্ঘদিন টিকে গেলে বারবার নতুন নোট ছাপানোর প্রয়োজন কমবে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ব্যয়ও কমতে পারে।

প্রথমে ১০ ও ২০ টাকা কেন?

দেশে দৈনন্দিন লেনদেনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ছোট মূল্যমানের নোটগুলির মধ্যে ১০ ও ২০ টাকা অন্যতম। বাজার, যাতায়াত, ছোটখাটো কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দৈনন্দিন লেনদেনে এই নোটের ব্যবহার বেশি। তাই প্রথম পর্যায়ে এই দুটি মূল্যমানের নোটকেই পরীক্ষার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০ টাকা এবং ২০ টাকার ১০০ কোটি করে পলিমার নোট বাজারে ছাড়া হবে। পরীক্ষামূলক ব্যবহারের পর নোটগুলির স্থায়িত্ব, ব্যবহারিক সুবিধা এবং সামগ্রিক কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হবে।

পরীক্ষা সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যায় পলিমার নোট বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, আপাতত কাগজের নোটের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং পাশাপাশি একটি নতুন ধরনের মুদ্রা হিসেবে পলিমার নোটের ব্যবহার শুরু হতে চলেছে। ফলে আগামী দিনে ভারতের দৈনন্দিন লেনদেনে ১০ ও ২০ টাকার পরিচিত কাগজের নোটের পাশাপাশি দেখা যেতে পারে আরও টেকসই, দীর্ঘস্থায়ী পলিমার নোট। পরীক্ষামূলক এই উদ্যোগ কতটা সফল হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে দেশে পলিমার মুদ্রার ভবিষ্যৎ বিস্তারের পথ।

For All Latest Updates

খাস খবর