ত্রিপুরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না সিপিআইএম বলছেন বিজেপি মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী : রাজধানীর বুকে বামেদের সাড়া জাগানো মিছিল কি কম্পন ধরালো দেশের অন্যতম শক্তি শালী দল বিজেপির ত্রিপুরা প্রদেশ শাখার বুকে ? প্রশ্ন উঠছে কারণ বামদের মিছিল এর পরেই সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপির প্রদেশ কার্যালয়ে বাম প্রসঙ্গ নিয়ে মুখরিত ছিলেন দলের মন্ত্রী নিজেই। আদৌ কি এই নিয়ে বৈঠক করা প্রাসঙ্গিক ছিল ? হ্যাঁ, প্রাসঙ্গিক বটে তবে এতটা গুরুত্ব দিয়ে কেন ? কারণ সেটাই, কম্পন।
আমরা নয়, এই উক্তি বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক বিস্লেশক মহলের। যারা দীর্ঘদিন এ রাজ্যে ডান বাম সব ধরনের রাজনীতি চাক্ষুষ করে এসেছেন।
সোমবার বামেদের জেল ভরো আন্দোলন এর পর মঙ্গলবার সকালে রাজধানী আগরতলায় প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে আয়োজিত হয় এক সাংবাদিক সম্মেলন । সেই থেকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ করেন ত্রিপুরার পরিবহন ও পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। উনি উনার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বিরোধীরা অভিযোগ করে এ রাজ্যে গণতন্ত্র নেই। কিন্তু প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র আছে বলেই তারা সাড়া রাজ্য ব্যাপী জেল ভরো আন্দোলন কর্মসূচী করতে পেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিরোধীরা যা কিছুই করুক না কেন এ রাজ্যে বামেরা আর কোনোদিন ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। তার দাবী আগামী ২০২৮ এ রাজ্যে আবারো বিজেপি সরকার গড়বে এবং ২০২৯ এ পুনরায় কেন্দ্রে মোদী সরকার ক্ষমতায় আসবে।
এদিন রাজ্যের পাশাপাশি দেশীয় রাজনীতি নিয়েও সরব হন মন্ত্রী। ঝাড়খণ্ডে কথিত চাকরি কেলেঙ্কারি প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে দিল্লির যন্তর মন্তরে কংগ্রেসের ‘জেন জি’ আন্দোলনকে সমর্থন করার বিষয়টি নিয়েও কংগ্রেসকে নিশানা করেন মন্ত্রী।
সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ বিজেপির সম্পাদক বিপিন দেববর্মা এবং দলের মিডিয়া ইনচার্জ সুনিত সরকার। সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী দাবি করেন, ঝাড়খণ্ডে কংগ্রেসের সরকার থাকায় সেখানে চাকরি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে রাহুল গান্ধী নীরব রয়েছেন।
সুশান্ত চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে সরব হওয়া রাহুল গান্ধী ঝাড়খণ্ডের বিষয়টি নিয়ে একইভাবে মুখ খুলছেন না। এর কারণ হিসেবে তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের রাজনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘জেন জি’ আন্দোলনকে কংগ্রেস সমর্থন করেছে বলেও দাবি করেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, একদিকে কংগ্রেস বিভিন্ন ইস্যুতে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে নিজেদের শাসিত রাজ্যে চাকরি সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে নীরবতা পালন করছে। এই দ্বৈত অবস্থান নিয়েই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি নেতৃত্ব মূলত কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান এবং বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন। ঝাড়খণ্ডের চাকরি সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি দিল্লির রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও কংগ্রেসের অবস্থানকে সামনে এনে দলটির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দ্বিচারিতার অভিযোগ তোলা হয়।
আগরতলার এই সাংবাদিক সম্মেলনের মধ্য দিয়ে রাজ্য বিজেপি ফের একবার জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন ইস্যুকে সামনে এনে কংগ্রেসকে আক্রমণের পথে হাঁটল। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, চাকরি এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়কে কেন্দ্র করে আগামী দিনে দুই দলের মধ্যে বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।






