Teliamura Hospital News : স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা লাটে উঠার নিরন্তর খবর প্রচারের পর আচমকা পরিদর্শনে গেলেন এলাকার জনপ্রতিনিধি তথা বিধানসভার মুখ্য সচেতক কল্যানী সাহা রায়। তেলিয়ামুড়া হাসপাতালে যেন মুহূর্তেই উনার এই সফরে থমথমে হয়ে পরে গোটা পরিবেশ।
বেশ কিছুদিন ধরেই হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে খবর প্রচার হচ্ছিল। প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়েছিল, এ কি হাসপাতাল নাকি নৈরাজ্যের আঁতুড়ঘর ? অবশেষে পরিস্থিতির গাম্ভীর্যতা বুঝে শনিবার বিধায়িকার হানা চলে মহকুমা হাসপাতালে। প্রশ্নের মুখে দাঁড়ান স্বাস্থ্য আধিকারিক রাজা জমাতিয়া।
একের পর এক প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হয়ে অবশেষে কেঁদেই দিলেন তিনি। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতাল’কে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ছিল। অভিযোগ উঠছিল হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবার বেহাল দশা, রোগী কল্যাণ তহবিলের লক্ষাধিক টাকা ফেরত যাওয়া এমনকি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ ও ভ্যাকসিনের পাচার নিয়েও।
তাছাড়া ডাক্তার, এম্ব্যুলেন্স ড্রাইভার ও হাসপাতাল কর্মীদের মর্জি মাফিক উপস্থিতি, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য— এমন অসংখ্য অভিযোগে কার্যত শোরগোল পরে গেছিল হাসপাতাল চত্বরে। অভিযোগের তীর বারবার গিয়েছে মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক রাজা জমাতিয়ার দিকেই। তাই উনাকেই সব কিছু নিয়ে তলব করেন বিধায়িকা। কিন্তু কোনো প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারেন নি তিনি।
সংবাদমাধ্যমের সামনে অকপটে কল্যাণী সাহা রায় স্বীকার করেন, “তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে কার্যত নৈরাজ্য চলছে।” হাসপাতালের এল.ডি.সি প্রশান্ত সিনহা, চিকিৎসক সমীর দেববর্মা সহ একাধিক কর্মীর খামখেয়ালি উপস্থিতি নিয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
অ্যাম্বুলেন্স সংকট প্রসঙ্গ নিয়ে বিধায়িকা বলেন, অতীতে তিনি বিধায়ক উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা ব্যায় করে একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করেছিলেন। এছাড়াও আরও একটি অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের কাছে থাকার কথা। তারপরও যদি সংকট থেকে থাকে, তবে প্রয়োজনে পুনরায় বিধায়ক তহবিল কিংবা রাজ্য সরকারের মাধ্যমে নতুন অ্যাম্বুলেন্সের ব্যাবস্থা করা হবে। তবু যাতে পরিষেবা পান রোগী রা। সেই দিক সুনিশ্চিত করতে হবে।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে উনি জানান এই গোটা বিষয় টি উনি নিজে মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্য মন্ত্রী প্রফেসর ডঃ মানিক সাহা র গোচরে নেবেন এবং উপজুক্ত ব্যবস্থা গ্রহনের আর্জি জানাবেন।



