Amarpur BDO Office : ক্ষমতা বড্ড বদ জিনিস। একটু বেড়ে গেলেই মানুষ ভুলে যায় তার সীমা কতটুক। এমন হাবভাব দেখাতে শুরু করে যেন এরাই সর্বেসর্বা। আর এই ক্ষমতাশালী রা আর কেউ নন, ত্রিপুরার অমরপুর মহকুমাধীন কিছু পঞ্চায়েত এর প্রধান ও পঞ্চায়েত কর্মী। যাদের ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ দেখে রীতিমত স্তব্ধ একজন শিক্ষিত , পরীক্ষা দিয়ে চাকুরী প্রাপ্ত ব্লক আধিকারিক অফিসার। একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করা , ভোটে জয়ী কতিপয় পঞ্চায়েত এর প্রধান দের দ্বারা হেনস্থা হতে হল এক বিডিও কে। নজির বিহীন এই ঘটনা নিয়েই তীব্র সমালোচনা চলছে রাজ্যের সর্বত্র।
বিবরণে প্রকাশ পায়, মঙ্গলবার দুপুরে অমরপুর মহকুমাধীণ ১০ টি গ্রাম পঞ্চায়েত এর প্রধান রা অমরপুর বিডিও অফিসে যান। তাদের অভিযোগ, বিগত এক থেকে দেড় বছর ধরে নাকি তাদের পঞ্চায়েত এলাকা গুলিতে সরকারি ফান্ড এর অর্থ না দেবার ফলে উন্নয়ন মূলক কাজ আটকে পরে আছে। পূর্বের বিডিও উৎপল দাস থাকাকালীন তাদের কোনো সমস্যা হয়নি। বরং অমরপুর ব্লক দেশের অন্যতম প্রগতিশীল ব্লক গুলোর মধ্যে তালিকা ভুক্ত ও হয়েছে এবং পুরষ্কার ও পেয়েছে। কিন্তু নতুন বিডিও আসার পর থেকেই নাকি থমকে গেছে পঞ্চায়েত এলাকা গুলোর উন্নয়ন। কেন তাদের প্রদত্ত কাজ গুলির জন্যে অর্থ প্রদান করা হচ্ছে না সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলেই এদিন বিডিও র দ্বারস্থ হন তারা।
কিন্তু আলোচনার মাঝেই হঠাৎ করে দুই প্রধান ক্ষিপ্ত হয়ে বিডিও র দিকে তার টেবিলে থাকা কাঁচের গ্লাস ছুড়ে দেন। গ্লাস টি ভেঙ্গে টুকরো হয়ে পরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। বিডিও সঞ্জীব দেবনাথ এর গায়ে ও আটকে যায় বেশ কিছু টুকরো। গোটা ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পরে। অতঃপর ঘটনা স্থলে উপস্থিত হওয়া প্রধানেরা তাদের ব্যাখ্যা দিয়ে জানান যে এই নতুন বিডিও নাকি পঞ্চায়েত গুলোর উন্নয়নে কোনো কাজ করছেন না।
এদিকে ঘটনার মূল কারণ জানতে চাইলে বিডিও সঞ্জীব দেবনাথ একেবারেই অন্য ব্যাখা দেন। উনি জানান উনি মাত্র ৩ মাস আগেই এই অফিসে নিযুক্ত হয়েছেন। তার মাঝে নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে উনার নিয়োজিত থাকার দরুন বেশ কিছুটা সময় অতিবাহিত হয়েছে। সব কিছু সেরে এপ্রিল এর মাঝামাঝি সময়ে উনি বিডিও অফিসে স্থায়ীভাবে উনার দায়িত্ব সামলান। এর পর থেকেই উনি অমরপুর ব্লক এর অধীন যে সমস্ত প্রকল্পের কাজ চলমান অবস্থায় রয়েছে সেগুলি খতিয়ে দেখেন।
উনার দাবী কিছু কিছু পঞ্চায়েত এলাকায় ওয়ার্ক অর্ডার ছারাই নাকি কাজ করানো হচ্ছে। সুতরাং ওয়ার্ক অর্ডারের কাগজ না দেখে উনি সরকারি তহবিলের অর্থ পঞ্চায়েত কে দিতে পারবেন না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া তা কোনো ভাবেই সম্ভব নয়। এই সংক্রান্ত খুঁটিনাটি বহু বিষয় পঞ্চায়েত প্রধানেরা জানেন না বলেও নিজের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন নয়া বিডিও।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর প্রশ্ন উঠছে, তবে কি পঞ্চায়েত এর একাংশ ঘুরপথে ওয়ার্ক অর্ডার ছারাই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ? সরকারি অর্থ নয়ছয় এর কোনো ভিন্ন ফন্দী আটা হচ্ছে কি ? বিডিও সাহেবের বক্তব্য অনুযায়ী বিগত এক বছর ধরে বহু অর্থ আটকে আছে। পূর্বের বিডিও সাহেব তবে কেন সেই অর্থ দিয়ে যান নি পঞ্চায়েত গুলোকে ?
সর্বোপরি, সমস্যার সমাধান চাইতে গিয়ে একজন সরকারি আধিকারিকের সাথে এহেন আচরন কতটা যুক্তি পূর্ণ ? জনসেবায় নিয়োজিত পঞ্চায়েত প্রধানেরা যদি একজন সরকারি আধিকারিকের সাথে এমন আচরন করেন তবে আম জনতার প্রতি তাদের আচরন কিরূপ হতে পারে, তা আশংকার বিষয়।



