Greater Tipraland : ত্রিপুরার জনজাতিদের দীর্ঘদিনের দাবি ‘গ্রেটার টিপ্রাল্যান্ড’ নিয়ে নতুন করে সরব হলেন তিপ্রা মথার সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মন। শনিবার রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন কেন্দ্রীয় সরকারকে—এই দাবি কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, বরং টিপ্রাসা জনগণের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
রাজভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রদ্যুৎ বলেন, বহু বছর ধরে জনজাতিদের দাবি শোনা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই এবার তারা একটি নির্দিষ্ট ও লিখিত সাংবিধানিক সমাধান চান। তাঁর কথায়, “আমরা দিল্লিকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি—শুধু আশ্বাসে আর চলবে না। যতক্ষণ না লিখিত প্রতিশ্রুতি মিলছে, ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চলবে।”
তিনি আরও জানান, এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো নিজেদের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ভূমির সুরক্ষা নিশ্চিত করা। ‘গ্রেটার টিপ্রাল্যান্ড’ কোনো বিভাজনের রাজনীতি নয়, বরং জনজাতিদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি বলেই তিনি উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তারা শান্তিপূর্ণ সমাধান চান, তবে সেই শান্তি যেন সম্মান বিসর্জনের বিনিময়ে না হয়।
প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মন তাঁর বক্তব্যে ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি টিপ্রাসা জনগণকে একজোট থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই ঐক্যই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং ভবিষ্যতের লড়াইয়ে সাফল্য এনে দিতে পারে।
রাজনৈতিক মহলে এই সাক্ষাৎকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, দিল্লি এই দাবির প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং আদৌ কোনো স্থায়ী সমাধানের পথ খোলে কিনা।
‘গ্রেটার টিপ্রাল্যান্ড’ ইস্যুতে তিপ্রাসা জনগণের আন্দোলন এখন আরও জোরালো পর্যায়ে পৌঁছেছে। কেন্দ্রের কাছে লিখিত সাংবিধানিক সমাধানের দাবিতে তারা অনড় অবস্থানে রয়েছে। আগামী দিনে এই দাবিকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং কেন্দ্র সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে সবার।



