Sonamura Women News : দক্ষিণ ত্রিপুরার সোনামুড়া থানাধীন রবীন্দ্রনগর শান্তিবাড়ি অরমারা এলাকায় এক বৃদ্ধা শাশুড়ির ওপর পুত্রবধূর নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারের মধ্যে অশান্তি চলছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ, পুত্রবধূ খুশ নেহারা নিয়মিতভাবে শাশুড়ির উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। বৃদ্ধার ছেলে আতুল ইসলাম কাজের সূত্রে চেন্নাইয়ে থাকায়, তাঁর অনুপস্থিতিতেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, বহুবার সমাজের লোকজন নিয়ে বৈঠক হলেও সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
ঘটনার চরম পরিণতি ঘটে সম্প্রতি, যখন পুত্রবধূর মারধরে বৃদ্ধার একটি হাত ভেঙে যায় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পরিবার থেকেও তিনি কার্যত বিচ্ছিন্ন—দুই ছেলে কেউই তাঁর পাশে দাঁড়াচ্ছেন না বলে জানা গেছে। একমাত্র মেয়ের মৃত্যুর পর নাতিকে আঁকড়ে ধরেই বেঁচে আছেন এই অসহায় বৃদ্ধা।
বৃদ্ধার আরও অভিযোগ, তিনি সোনামুড়া মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে গেলে পুলিশের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহায়তা পাননি। বরং, থানার মহিলা পুলিশ সদস্যরা তাঁকেই শাসিয়ে দেন বলে দাবি তাঁর। পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বর্তমানে, নিজের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচারের আশায় দিন গুনছেন ওই বৃদ্ধা। অভিযুক্ত পুত্রবধূর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, নিজের বাড়িতে ফিরে গিয়ে নিরাপদে জীবনযাপন করার আর্জিও জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
সোনামুড়া মহিলা থানার ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ রয়েছে, নির্যাতিত বৃদ্ধা সাহায্যের আশায় থানায় গেলেও প্রত্যাশিত সহায়তা তো দূরের কথা, উল্টে তাঁকেই শাসিয়ে দেওয়া হয়। একজন অসহায় বৃদ্ধার প্রতি পুলিশের এমন আচরণ মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তোলে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগ গ্রহণ করে যথাযথ তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বদলে পুলিশ যদি উদাসীনতা দেখায়, তবে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হওয়াই স্বাভাবিক। দ্রুত এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।



