CITU Protest News : ত্রিপুরায় শ্রমিক ও কৃষক সংগঠনগুলির ডাকে ফের উত্তাল হলো রাজ্য রাজনীতি। কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রমজীবী স্বার্থবিরোধী চারটি শ্রম কোড বাতিলের দাবিতে সিআইটিইউ (CITU) ও সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার যৌথ উদ্যোগে এক বৃহৎ বিক্ষোভ কর্মসূচি সংগঠিত হয়। পশ্চিম জেলা পার্টি অফিস, মেলারমাঠ থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিক্রমা করে শেষ হয় অফিস লেনে অবস্থিত শ্রম দপ্তরের সামনে। সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি একটি প্রতিবাদ সভারও আয়োজন করা হয়।
মিছিলে অংশগ্রহণকারী শ্রমিক, কৃষক ও সংগঠনের কর্মীরা কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রম নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, নতুন শ্রম কোডগুলি কার্যকর হলে শ্রমিকদের অধিকার খর্ব হবে এবং কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠবে। এই প্রেক্ষাপটে দ্রুত এই কোডগুলি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
এদিন সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিআইটিইউ নেতা পবিত্র কর একটি পৃথক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুও তুলে ধরেন। তিনি সিপাহিজলা জেলার বিশালগড় মহকুমার অন্তর্গত জম্পুইজলা ব্লকের চন্দ্রমণি রাবার বাগানের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই ওই বাগানে চুরির ঘটনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে, যা স্থানীয় অর্থনীতির উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
পবিত্র কর জানান, রাবার বাগানগুলি রাজ্যের অর্থনৈতিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। অথচ, একদল দুষ্কৃতী নিয়মিত বাগানে ঢুকে রাবার চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বারবার মালিক পক্ষকে জানানো হলেও তাঁদের তরফে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে, তেমনই তাঁদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ নিয়েও টালবাহানা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদেই শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন বলে জানান তিনি। সিআইটিইউ-এর পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়—রাবার চুরি অবিলম্বে বন্ধ করে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বকেয়া মজুরি দ্রুত পরিশোধ করা।
সভা থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, এই দাবিগুলি দ্রুত পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবে সংগঠনগুলি। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় তাঁদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
সমগ্র কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় যথেষ্ট উত্তেজনা তৈরি হলেও তা শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়।
সব মিলিয়ে এই আন্দোলন শুধু শ্রম কোডের বিরোধিতায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং শ্রমিকদের নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি ও কাজের অধিকার রক্ষার বৃহত্তর লড়াইয়েরই প্রতিফলন। সংগঠনগুলির স্পষ্ট বার্তা—দাবি না মানা হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে এবং শ্রমিক স্বার্থ রক্ষায় তারা আপসহীন অবস্থানেই থাকবে।



