Jitendra Chowdhury Reacts on Budget : ত্রিপুরা বিধানসভায় ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ হওয়ার পর রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। বাজেটকে “দিশাহীন, কসমেটিক এবং লব-সাইডেড” বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী । তাঁর অভিযোগ, বাজেটে রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য কোনো সুস্পষ্ট দিশা বা বাস্তব পরিকল্পনা নেই এবং যুব সমাজের জন্যও বিশেষ কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি।
বাজেট প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, সংস্কৃতি, কর্মসংস্থান ও আইন-শৃঙ্খলার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে না। তাঁর মতে, গত দুই অর্থবর্ষের মতো এবারের বাজেটেও বড় বড় মুখরোচক শব্দ ব্যবহার করা হলেও বাস্তব উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।
বিরোধী দলনেতা বলেন, প্রতিবছর বাজেটের অঙ্ক বাড়লেও তার মূল কারণ মুদ্রাস্ফীতি। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে, ফলে বাজেটের অঙ্ক বাড়াটা স্বাভাবিক। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, যে সাবান বা বিস্কুট কয়েক বছর আগে কম দামে পাওয়া যেত, এখন তার দাম বেড়েছে। একইভাবে এক কাপ চায়ের দামও বেড়েছে। এই কারণে বাজেটের অঙ্ক বাড়লেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি আসছে না বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, একটি স্থিতিশীল সামাজিক কাঠামো গড়ে তুলতে সরকারের আন্তরিকতা ও সুপরিকল্পিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু এবারের বাজেটে সেই ধরনের কোনো স্পষ্ট রূপরেখা দেখা যায়নি। তাঁর অভিযোগ, বাজেট মূলত বক্তৃতা ও রেটোরিকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং এতে ত্রিপুরার সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলে তিনি মনে করেন না।
বিশেষ করে যুব সমাজের প্রসঙ্গ তুলে ধরে জিতেন চৌধুরী বলেন, বাজেটে যুবকদের জন্য কোনো উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ বা কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নেই। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরে বহু শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও সেগুলো পূরণের ব্যাপারে সরকারের কোনো সুস্পষ্ট উদ্যোগের কথা বাজেটে উল্লেখ করা হয়নি।
তাঁর কথায়, কৃষি দপ্তর, পুলিশ বিভাগ, শিক্ষা দপ্তর এবং বিভিন্ন হাসপাতালেই কর্মীর অভাব রয়েছে। অনেক জায়গায় শিক্ষক, নার্স ও ডাক্তার নেই। এই শূন্যপদগুলো পূরণ করা হলে একদিকে যেমন প্রশাসনিক পরিষেবা শক্তিশালী হবে, তেমনি বহু বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
যুবকদের কর্মসংস্থান নিয়ে তিনি বলেন, শুধু স্কিল ডেভেলপমেন্টের কথা বললেই হবে না। দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি যুবকদের কাজ শুরু করার জন্য প্রয়োজন মূলধন, স্বল্প সুদের ঋণ এবং উপযুক্ত পরিকাঠামো। এই পরিবেশ ও সুযোগ তৈরি করার দায়িত্ব সরকারেরই।
তিনি ব্যক্তিগতভাবে বেকার ভাতার পক্ষে নন বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, বেকার ভাতা স্থায়ী সমাধান নয়। বরং এমন ব্যবস্থা করতে হবে যাতে যুব সমাজ নিজস্ব উদ্যোগে কাজ শুরু করতে পারে এবং আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে।
সবশেষে বিরোধী দলনেতা জানান, বাজেটের বিস্তারিত বিশ্লেষণ করার পর বিধানসভায় গঠনমূলকভাবে এর ত্রুটি ও দুর্বলতাগুলি তুলে ধরা হবে। তাঁর দাবি, বর্তমান বাজেটে নতুন কোনো উদ্যোগের উল্লেখ নেই, বরং আগের বছরগুলোর মতোই কিছু প্রকল্প ও রাজনৈতিক বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে।



